গোলাপগঞ্জে সংঘর্ষে ছাত্রলীগ কর্মী সুরেশ দাস নিহতের ঘটনায় মামলা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:১৬:৫৮ অপরাহ্ন
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জে ছাত্রলীগ কর্মী সুরেশ দাস নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল নিহতের পিতা সুবাশ দাস বাদী হয়ে গোলাপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৪০/৫০জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলার আসামীরা হলেন-১। মনজুর আলম (৩১), পিতা মোকলেস আলী, সাকিন-তুরকভাগ, থানা গোলাপগঞ্জ, জেলা-সিলেট, ২। মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৩৮), পিতা-মৃত আব্দুল আজিজ, সাকিন- দখারপাড়া, উত্তর ভাদেশ্বর, থানা-গোলাপগঞ্জ, জেলা-সিলেট ৩। সাকিল (৩৫), পিতা মৃত সোনাফর উল্লা (সুনাই), ৪। মোহাম্মদ ছয়েফ (৪৪), পিতা- মৃত আনোয়ার মিয়া, সাকিন-দখারপাড়া, থানা-গোলাপগঞ্জ, জেলা-সিলেট, ৫। মনোয়ার হোসেন (২৫), পিতা মৃত মজিদ উল্লা, সকিন-তুরকভাগ, থানা গোলাপগঞ্জ, জেলা-সিলেট, ৬। গোলাম হোসেন (২২), পিতা মনু মিয়া, ৭। বাছিত মিয়া (২৫), পিতা কলমদর মিয়া, ৮। কলমদর মিয়া (৪৮), পিতা মৃত আয়াত উল্লাহ, ৯। মনোহর মিয়া (৩৫), পিতা মৃত মকদ্দছ আলী, সাকিন-আউশকান্দি, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা, সর্ব থানা গোলাপগঞ্জ, জেলা-সিলেট।
মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল-আমিন জানান, এখনও কোনো আসামীকে আটক করা যায়নি। তবে আসামীদের ধরতে সম্ভাব্য স্থানসমূহে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। দ্রুতই তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গোলাপগঞ্জের চৌমুহনী রোডে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গোলাপগঞ্জ থানা শাখা এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভা চলাকালীন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যুবদল ও ছাত্রদল মিছিল নিয়ে চৌমুহনী রোডে আসলে উভয়পক্ষে উত্তেজনা দেখা দেয়। তখন ছাত্রদল ও যুবদলের মিছিল থেকে আওয়ামীলীগের সভাস্থলে হামলা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে ছাত্রদল ও যুবদল কর্মীরা পালিয়ে যায়। সংঘর্ষে ছাত্রলীগ কর্মী আলী হোসেন, কবির, সাহাব, রণি ও সুরেশ দাস আহত হন। তবে সুরেশ দাসের অবস্থা ছিল আশংকাজনক। আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে সুরেশ দাস মৃত্যুবরণ করেন। গতকাল তার অন্তেষ্টিক্রিয়া ব্রাহ্মণ শাসন শ্মশানঘাটে সম্পন্ন করা হয়েছে।
সুরেশ দাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতংক নেমে আসে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।




