নতুন বছরেও ভালো নেই নিম্ন আয়ের মানুষ
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ জানুয়ারি ২০২৩, ৬:৩৫:১৮ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: নতুন বছরের প্রভাব নেই শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে। অর্থনৈতিক মন্দা আর নিত্যপণ্যের উর্ধ্বমুখী প্রবণতায় সকল ধরনের আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়েছে তাদের। বিনোদনের চেয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে টিকে থাকাই এখন তাদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার নগরীর বেশ কয়েকটি ব্যস্ত এলাকায় ফুটপাত ও নিম্ন আয়ের লোকজনের সাথে কথা বলে এই চিত্র দেখা গিয়েছে। নতুন বছর পদার্পনের মাত্র একদিনের মধ্যেই মানুষ যে ভালো নেই তা এখন মোটা দাগে স্পষ্ট।
বছরের এই সময় শীতের কাপড়ের জমজমাট ব্যবসা থাকলেও ব্যবসায়ীরা বলছেন এবার আগের সেই অবস্থা নেই। গত কয়েকদিনে শীতের তীব্রতা বেড়েছে অনেক। এইসময় ফুটপাতে শীতের কাপড়ের কাড়াকাড়ি লেগে যায়। অথচ এবার মানুষের সেই আগ্রহ নেই। ক্রেতাদের মধ্যে যাদের দেখা যায় তারা বেশিরভাগই বাচ্চাদের কাপড়ের জন্য এসে থাকেন। কেউ কেনেন আর সিংহভাগই দরদাম করে চলে যান।
নগরীর জিন্দাবাজার প্লাজা মার্কেটের কাছে কথা হয় কবির নামে এক ভাসমান কাপড় বিক্রেতার সাথে। তার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে। সিলেটে বাদামাবাগিচা এলাকায় এক বস্তিতে থাকেন। দুপুরে খেয়ে বাসা থেকে বের হন ভ্যান নিয়ে। রাত সাড়ে বারোটা থেকে একটা পর্যন্ত বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে কাপড় বিক্রি করেন। চৌহাট্টা থেকে গার্লস স্কুলের সামনের রাস্তায়ই তিনি বেশি কাপড় বিক্রি করে থাকেন। কবির জানান আগে তিনি বাদাম বিক্রি করতেন। বাদামের ব্যবসা মন্দা হওয়ায় সেই ব্যবসা ছেড়ে কাপড়ের ব্যবসায় নেমেছেন। নতুন বছরে ব্যবসাপাতি কেমন যাচ্ছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন আমাদের কাছে বছর নতুন পুরাতন বলতে কিছু নেই। এবার একেবারে জমে গিয়েছি। করোনার যাতার পর জিনিসপত্রের দাম বারবার বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে যে যাতা খেয়েছি তাই সামলে উঠতে পারছি না। শীতের সময় গরম কাপড়ের ব্যবসা একটু জমে উঠে কিন্তু এবার এখনও ভাব ভালো দেখছি না। রাস্তাঘাটে অনেক মানুষ কিন্তু ক্রেতা নেই। যাদের হাতে অনেক টাকা তারা বড়ো বড়ো দোকানে কাপড় কিনে, কিন্তু আমাদের কাস্টমারদের অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ। মানুষের টাকাপয়সার অবস্থা ভালো নেই। তারা এখন শুধু বাচ্চাদের জন্য গরম কাপড় কিনতে আসে, তাও অনেক সময় নিয়ে দরদাম করে এক দুইটা কাপড় কিনে কিন্তু বড়োদের কাপড় খুব একটা বিক্রি নেই। বিক্রি না থাকলে আমরাও ভালো থাকি না।
জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় শ্রমজীবীদের অবস্থাও খুব ভালো নেই। অনেকেই জানান আগে যেখানে পাঁচজন দিয়ে কাজ করানো হতো এখন সেখানে তিনজন দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। কারণ পাঁচজনের ব্যয় মালিকরা নিতে চাইছেন না। ফলে কাজের মান কমছে, কমছে শ্রমের দামও। অনেকেই কাজ পেশা বদলে গার্মেন্টর্স বা কলকারখানায় চলে যাচ্ছেন।





