বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ মার্চ ২০২৩, ৯:১৯:৪৭ অপরাহ্ন
স্পোর্টস ডেস্ক: টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। সেই তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান তলানীতে। তবে এই ব্যবধানকে দূরে ঠেলে ইংলিশদের বিপক্ষেই চমক দেখাল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে সীমিত ওভারের ফরম্যাটে ইতিহাস গড়ল সাকিব আল হাসানের দল।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৪৫ ম্যাচে বাংলাদেশের এটি পঞ্চাশতম জয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়। জয়-পরাজয়ে দু’দলের সমীকরণ এখন ১-১। এই জয়ের পর টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে স্রেফ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জেতা বাকি রইল বাংলাদেশের।
কাল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক রকমেই ব্যাটিং করে গেছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের যে একটা ধরন আছে, বাংলাদেশ ক্রিকেটে তা ছিল অনুপস্থিত। তবে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে যেন ভিন্ন এক বাংলাদেশ দলকে দেখা গেছে। ইংল্যান্ডের দেওয়া ১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং করে গেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত-রনি তালুকদাররা।
স্ট্রাইক রেট নিয়ে অনেক সমালোচনা শোনা শান্তই যেন কাল একটু বেশি অশান্ত হয়ে উঠলেন। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্রুততম ফিফটি তুলে নিয়েছেন। ২৭ বলে করেন টি-টোয়েন্টিতে নিজের তৃতীয় ফিফটি। ৩০ বলে ৫১ রানে ড্রেসিং রুমে ফেরেন তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা শান্ত। ১৭০ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসে ছিল ৮টি চার।
ব্যাটিংয়ে যারাই নেমেছেন, সবারই স্ট্রাইক রেট ছিল ১০০-এর ওপরে। আট বছর পর নিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে খেলতে নেমে ৪টি চারে ১৪ বলে ২১ রান করেছেন ওপেনার রনি তালুকদার। ১৫০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছেন তিনি। ১০ বলে ১২ রান করেছেন লিটন। তাঁর স্ট্রাইক রেটও ১২০। বিপিএলে অসাধারণ ব্যাটিং
করা তাওহীদ হৃদয়ও অভিষেকটা রাঙিয়েছেন ১৭ বলে ২৪ রানে। ১৪১.১৭ স্ট্রাইক রেটের ব্যাটিংয়ের সঙ্গে মেরেছেন ২টি চার ও একটি ছক্কা।
১১২ রানে ৪ উইকেট হারালেও পঞ্চম উইকেটে সাকিব আল হাসান ও আফিফ হোসেনও ভয়-ডরহীন ব্যাটিং করে গেছেন। ২৪ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন সাকিব। ১৪১.৬৬ স্ট্রাইক রেটের সঙ্গে ছিল ৬টি চারের বাউন্ডারি। ১৩ বলে ১৫ রান আসে আফিফের ব্যাট থেকে।
এর আগে বড় স্কোরের ইঙ্গিত দিয়েও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সংগ্রহটা ঠিক ততটা বড় হয়নি। শুরুতে একটু এলোমেলো বোলিং হলেও পরে নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছেন বোলাররা। যার সৌজন্যে ইংল্যান্ডকে ১৫৬ রানেই বেঁধে ফেলল বাংলাদেশ।
ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ বলে ৬৭ রান করেছেন জস বাটলার। ষষ্ঠ ওভার নাসুম আহমেদের বলে মিড-অনে ফিল্ডিং করা সাকিব আল হাসান যদি ক্যাচ ধরতে পারতেন, তাহলে হয় তো স্কোরটা আরেকটু কমও হতে পারত। ১৭ তম ওভারে হাসান মাহমুদের বলে নাজমুল হোসেন শান্তকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাটলার। ৪টি চার ও চারটি ছক্কা ছিল ইংলিশ অধিনায়কের ইনিংসে।
এ ছাড়া ইংল্যান্ডের হয়ে ফিল সল্ট ৩৫ বলে ৩৮ ও বেন ডাকেট ১৩ বলে ২০ রান করেছেন। বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ দিকে মঈন আলী-স্যাম কারানরা ঝড় তোলার সুযোগই পাননি। ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান করতে পারে ইংল্যান্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ইংল্যান্ড : ২০ ওভারে ১৫৬/৬ (সল্ট ৩৮, বাটলার ৬৭, মালান ৪, ডাকেট ২০, মঈন ৮*, কারান ৬, ওকস ১, জর্ডান ১*; নাসুম ৪-০-৩১-১, তাসকিন ৪-০-৩৫-১, মুস্তাফিজুর রহমান ৪-০-৩৪-১,সাকিব ৪-০-২৬-১, হাসান ৪-০-২৬-২)
বাংলাদেশ : ১৮ ওভারে ১৫৮/৪ (লিটন ১২, রনি ২১, শান্ত ৫১, তৌহিদ ২৪, সাকিব ৩৪, আফিফ ১৫; কারান ২-০-১৮-০, ওকস ২-০-২১-০, আর্চার ৩-০-২৭-১ , রশিদ ৩-০-২৫-১, উড ২-০-২৪-১, মঈন ৪-০-২৭-১, জর্ডান ২-০-১৬-০)।
ফল : ৬ উইকেটে জয়ী বাংলাদেশ। সিরিজ : ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ।





