ভিসা নীতির বিরুদ্ধে মামলার ঘোষণা!
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ জুন ২০২৩, ১২:৩০:৩২ অপরাহ্ন
‘আমি কোন অপরাধী, চোর, বাটপার, দুর্নীতিবাজ, নিপীড়ককে আমার ঘরে ঢোকার অনুমতি দেবো না’Ñএমন ঘোষণা যদি কেউ দেয়, তবে এই ঘোষণাকারীর বিরুদ্ধে কি কেউ পঞ্চায়েত বা আদালতে গিয়ে বিচার চাইতে পারে? না, পারে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ডঃ রাব্বি নামক জনৈক মার্কিন নাগরিক এমনি একজন যিনি এমনি অযৌক্তিক কর্মে এগিয়ে এসেছেন। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আরোপিত ভিসা নীতির বিরুদ্ধে তিনি মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মার্কিন ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করতে যাচ্ছেন। উক্ত ব্যক্তি তার ফেসবুক প্রোফাইল আইডি থেকে এবং পরবর্তীতে একটি বাংলাদেশী দৈনিক পত্রিকায় এ ধরনের ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই অভাবনীয় সিদ্ধান্তকে অনেকে প্রকাশ্যে অপকর্মের পক্ষাবলম্বন ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। একটি দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বাধা দানকারীর বিরুদ্ধে না দাঁড়িয়ে তার পক্ষাবলম্বন একটি নিন্দনীয় ব্যাপার, এতে কোন সন্দেহ নেই। এটা শুধু অগণতান্ত্রিক ও মানবতাবিরোধী কর্মই নয়, বরং স্বৈরতন্ত্র ও অমানবিকতার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ ছাড়া আর কিছুই নয়।
উক্ত ব্যক্তির দাবি, কোন রকম তদন্ত ছাড়া এবং অযৌক্তিক ও একতরফা বাংলাদেশে মার্কিন ভিসা নীতি ও আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত ও ১৮ কোটি জনগণকে হেয় প্রতিপন্ন এবং অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে অপরাধ করা হয়েছে। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, ডঃ রাব্বির দাবি বাংলাদেশে আরোপিত নতুন মার্কিন ভিসা নীতি বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষতির কারণ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি বা ভিসা নিষেধাজ্ঞা যদি বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনে চক্রান্তকারী ও বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে আরোপ ও প্রয়োগ করা হয়, তবে এটা কীভাবে বাংলাদেশ ও এর জনগণের জন্য ক্ষতির কারণ হবে, তা বোধগম্য নয়। বরং এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বাংলাদেশ যদি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয় এবং এর জনগণ যদি গণতন্ত্রপন্থী বা গণতন্ত্রের সমর্থক হয়, তবে এই নতুন ভিসা নীতি তো তাদের জন্য লাভজনক তথা তাদের স্বার্থের পক্ষে। কারণ এই ভিসা নীতি গণতন্ত্রের বিপক্ষের শক্তিকে প্রতিহত ও প্রতিরোধ করবে বলে দেয়া হয়েছে। এই নতুন ভিসা নীতি দেশে বিদেশে যাদের জন্য অ্যালার্জি সৃষ্টি করেছে বা অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তারা নিশ্চিতভাবেই চায় না এদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক।
বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মানুষ হয়ে একটি হিতকামী এবং গণতান্ত্রিক চর্চা ও অনুশীলনে সহায়ক নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করায়, এদেশের সতেরো কোটি মানুষের পক্ষ থেকে এ মুহূর্তে তাকে ধিক্কার জানানো ছাড়া আর কিছুই করার নেই। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বাধাদানকারী অপশক্তি ও অপকর্মকারীদের পক্ষাবলম্বন করায়, এদেশের জনগণসহ বিশ্বের সকল বিবেকবান মানুষের উচিত, তার ব্যাপারে দেশে বিদেশে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা এবং সতর্ক থাকা। আমরা এদিকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল সচেতন ও বিবেকবান মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।




