হিরো আলমকে নিয়ে বিবৃতি : ১৩ দেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে সরকারের অসন্তোষ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জুলাই ২০২৩, ৭:৫৮:১৬ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক : আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় ১২টি বিদেশি মিশন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যে যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল, তাতে কূটনৈতিক রীতিনীতি ভঙ্গ করা হয়েছে বলে মনে করছে সরকার।
বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৩টি মিশনের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরা হয়। পরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারকে পাশ কাটিয়ে বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষতা ও পক্ষপাতহীনতা বর্জিত আচরণ কেবলই পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি করবে। বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের প্রতি ভবিষ্যতে এমন ‘অকূটনৈতিক’ আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে বৈঠকে।
গত ১৭ জুলাই ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে বনানীর একটি কেন্দ্রে গিয়ে হামলার শিকার হন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম। কেন্দ্রের বাইরে রাস্তায় ফেলে তাঁকে পিটিয়েছিল নৌকার ব্যাজধারীরা।
অনাকাঙ্খিত ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘কূটনৈতিক রীতিনীতি ভঙ্গ করে’ ১৩টি দূতাবাস গণমাধ্যমে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ (বুধবার) দুপুরে তাদের রাষ্ট্রদূতদের আমরা ডেকেছিলাম। তাদের কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণে আমরা আমাদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছি।
শাহরিয়ার আলম বলেন, আমরা বলেছি যে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা যা দিয়ে সারা দিনের শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনকে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।’ এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, হিরো আলম ওই দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে অবাধে ঘুরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। ভোট শেষ হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনিও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হননি, বা কোনো অভিযোগ করেননি। অন্যান্য প্রার্থীরাও কোনো ধরনের সহিংসতা বা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ করেননি।
শাহরিয়ার আলম বলেন, তাই শুধুমাত্র একটি কেন্দ্রের শেষ মুহূর্তের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে গুটিকয়েক কূটনীতিকবৃন্দ যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তা কখনোই সারা দিনের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে প্রতিফলিত করে না। দ্রুত একটি প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তারা তাদের মূল্যায়নটির বস্তুনিষ্ঠতার প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেননি।





