বিশ্ববাজারে কমলেও দেশে কমছে না তেলের দাম
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ আগস্ট ২০২৩, ১২:৩০:৪৩ অপরাহ্ন

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানী তেলের দাম নিম্নমুখী। ২০২২ সালের মার্চ মাসে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৩৯ ডলারে উন্নীত হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তীব্র অর্থনৈতিক চাপ ও সংকট দেখা দেয়। সেই দাম এখন প্রতি ব্যারেলে ৮০ হ্রাস পেয়েছে। বলা যায়, গত ক’মাসে অর্ধেকের ও বেশী কমেছে জ্বালানী তেলের দাম।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানী তেলের দাম এতো বিপুল হারে হ্রাস পেলেও বাংলাদেশে এর দাম কমার কোন আলামত নেই। অথচ সময়ে সময়ে আন্তর্জাতিক বাজার দরের সাথে দেশীয় বাজার দরের সমন্বয় করার প্রতিশ্রুতি সত্বেও তা করা হচ্ছে না। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন গত ৯ আগস্টের মূল্য তালিকা অনুসারে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম হচ্ছে ১০৯ টাকা, অকটেন ১৩০ টাকা ও পেট্রোল ১২৫ টাকা। এলপি গ্রাস (১২.৫০ কেজি প্রতি সিলিন্ডার) ৫৯১ (বিপিসি’র এলপিজি সিলিন্ডার)।
চলতি বছরের ৬ আগস্ট ডিজেল ও কোরোসিনের দাম লিটার প্রতি ৮০ থেকে ১১৪ টাকা করা হয়। অর্থাৎ এই দাম বৃদ্ধির হার প্রায় ৪২ শতাংশ। এছাড়া লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম ৮৬ টাকা থেকে ১৩০ টাকা করা হয়। অকটেনের দাম বাড়ে ৮৯ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা। অর্থাৎ পেট্রোল ও অকটেনের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির হার ৫০ শতাংশের বেশী। তখন এক সরকারী বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ^বাজারে জ¦ালানী তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যবৃদ্ধি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। গত ১৯ আগস্ট বিবিসি নিউজ বাংলায় জ্বালানী তেল : ‘বিশ^বাজারের সাথে বাংলাদেশে দাম সমন্বয় হয় না কেনো?’ শিরোনামে এক প্রতিবেদন প্রকশিত হয়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশে সম্প্রতি জ্বালানী তেলের মূল্য এক লাফে প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পর সরকারের তরফ থেকে বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছিলো যে, বিশ^বাজারে দাম কমলে বাংলাদেশেও কমানো হবে। তবে গত কয়েক দিন ধরে বিশ^বাজারে তেলের দাম কমে এলেও বাংলাদেশে তেলের দাম কমানোর কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। একবারে জ্বালানী তেলের এমন নজিরবিহীন বৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাবে বাজারে যেমন সব জিনিষের দাম বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে পরিবহন খরচও। এভাবে দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যা দিয়ে জ্বালানী মন্ত্রণালয় বলেছিলো যে, ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর স্থানীয় পর্যায়ে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য বৃদ্ধি করে পুননির্ধারণ (ডিজেল ৮০ টাকা ও কেরোসিন ৮০ টাকা), করা হয়। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রবণতা সত্বেও অকটেন ও পেট্রোলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়নি।
যা-ই হোক, আগস্টে জ্বালানী তেলের পর বর্তমানে বিশ্ববাজারে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম অর্ধেকেরও বেশী কমলেও বাংলাদেশ সরকারকে দাম সমন্বয়ের অর্থাৎ কমানোর তেমন কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না। বলা বাহুল্য, জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধির সাথে সাথে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিসহ প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। এই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। অথচ জ¦ালানী তেলের প্রকৃত অর্থেই কমানো হলে দেশে খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য ও সেবার দাম হ্রাস পেতো। কিন্তু বর্তমান ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্যে জ্বালানী তেলের মূল্য কমানোর কোন পদক্ষেপ নেই। মাঝে মধ্যে আইওয়াশধর্মী কিছু মূল্য সমন্বয় করা হলেও এর কোন ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি বাজারে তথা বাজার দরে। বিষয়টি অত্যান্ত দুর্ভাগ্যজনক। সাধারণ সীমিত আয়ের মানুষের আর্থিক দুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে এদিকে সরকারের উর্ধতন মহলের দৃষ্টি দেয়া আবশ্যক বলে মনে করেন সচেতন মহল।




