সিলেট বিভাগে ৫৩০ কুষ্ঠ রোগী
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, ৮:৪৬:১৫ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : বর্তমানে সিলেট বিভাগে ৫৩০ জন কুষ্ঠ রোগী রয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে কুষ্ঠ সম্পূর্ণ নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এটি অর্জনে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই তথ্য জানান সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী। সিভিল সার্জন কার্যালয়ে মতবিনিময়ের আয়োজন করে দি লেপ্রসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।
লেপ্রার তথ্যমতে, সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বেশী ২৩০ জন কুষ্ঠ রোগী মৌলভীবাজারে। এছাড়া সিলেটে ১৮০, হবিগঞ্জে ১১৭ ও সুনামগঞ্জে ১০৩ জন কুষ্ঠ রোগী রয়েছেন। এদের অধিকাংশই চা শ্রমিক ও খেটে খাওয়া পরিবারের সদস্য।মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, কুষ্ঠ রোগী হিসেবে শনাক্ত হওয়ার ভয়ে আক্রান্ত অনেকে চিকিৎসকের কাছে যান না। কেউ কেউ কবিরাজসহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নেন। এসব কারণে সব রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনতে সময় লাগে। ততদিনে রোগ অনেক দূর গড়ায়। এতে অনেকেই প্রতিবন্ধীকতার শিকার হন। এ বিষয়ে মানুষের মাঝে আরও সচেতনতা বাড়াতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো দেশে কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা প্রতি ১০ হাজারে একজনের নিচে নেমে এলে দেশটিকে ‘কুষ্ঠ রোগমুক্ত’ ঘোষণা করা যায়। সেই হিসেবে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ ‘কুষ্ঠ রোগমুক্ত’ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেও এখনও প্রতি বছর বহু মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
সিভিল সার্জন জানান, কুষ্ঠরোগ বংশগত নয়, এটি মৃদু সংক্রামক রোগ। ১০০ জন রোগীর মধ্যে ২০ জন রোগী সংক্রামক। কুষ্ঠ রোগ বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে রোগী চিকিৎসার আওতায় এলে জীবাণু ছড়ায় না। চিকিৎসা নিতে দেরি হলে রোগীর হাত-পা-চোখসহ বিভিন্ন স্থানে বিকলাঙ্গতা দেখা দেয়। অনুভূতিহীন হালকা ফ্যাকাসে অথবা সাদাটে দাগ, চামড়ায় গুটি বা দানা, কানের লতি মোটা হওয়া- এসব কুষ্ঠ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ।
তিনি জানান, কুষ্ঠ রোগের কিছু লক্ষণ প্রকাশ পেলেও মানসিক ও সামাজিক নিগ্রহের শিকার হওয়ার ভয়ে রোগীরা প্রাথমিক পর্যায়ে হাসপাতালে আসেন না। অথচ সচেতনতার মাধ্যমে কুষ্ঠ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, কুষ্ঠ রোগ ছড়িয়ে যাতে না পড়ে সেজন্য মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করছে।ডা. ফারহানা নাসরিনের পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত, ডা. নাহিদ রহমান, সিলেটের সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রফিক, লেপ্রার মনিটিরিং অফিসার শ্যামল কুমার চৌধুরী।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন- কুষ্ট রোগে চিকিৎসা নেওয়া খুদিরাম মুন্ডা, নিয়তি মুন্ডা, শেফালি রাণী ও সমীরণ দাস। এ সময় নিয়তি মুন্ডা জানান, তার বাবা খুদিরাম মুন্ডার প্রথম এই রোগ দেখা দেয়। পরে তিনিও আক্রান্ত হন। চিকিৎসায় তারা এখন অনেকটা সুস্থ। বিনামূল্যে তারা সরকারি এই চিকিৎসা পেয়েছেন বলেও জানান।





