ভয়াবহ বন্যায় যা করণীয়
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ জুন ২০২৪, ১২:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন

গত ২০২২ সালের জুন মাসের ভয়াবহ বন্যার মতোই চলতি বছরের জুনে সিলেট বিভাগ জুড়ে দেখা দিয়েছে মারাত্মক বন্যা। সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও নদীর পানি বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সামগ্রিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির তেমন কোন উন্নতি হয়নি এখনো। এখনো লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সর্বত্র খাবার ও পানীয় জলের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে কিছু কিছু ত্রাণ তৎপরতা লক্ষ্য করা গেলেও তা অপর্যাপ্ত। অনেক স্থানে সরকারী কোন ত্রাণ তৎপরতা নেই, এমন অভিযোগও করছেন ভুক্তভোগী বন্যার্ত লোকজন।
গতকাল দুপুর থেকে বৃষ্টিপাত না থাকায় সিলেটে বিশেষভাবে সিলেট নগরীতে বন্যার পানি কমতে শুরু করে। নগরী ও এর আশপাশের নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। কিন্তু সুরমা নদীর পানি এখনো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নগরীর জলাবদ্ধতা সম্পূর্ণ দুর হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এজন্য দুয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। জেলার ওসমানীনগর উপজেলার লাখ খানেক মানুষ এখনো পানিবন্দী। গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আর বৃষ্টি না হলে এবং ভারত থেকে ঢল না নামলে দু’তিনদিনের মধ্যে সিলেট বিভাগের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
কিন্তু ২০২২ সালের মতো এবারের বন্যার ক্ষেত্রেও বন্যা পরবর্তী দুর্ভোগ দুর্দশা প্রকটভাবে দেখা দেয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবে হাজার হাজার মানুষের মাঝে অপুষ্টি ও নানা অসুখ বিসুখ দেখা দিতে পারে। ডায়রিয়া চর্মরোগসহ নানা ধরনের বন্যাজনিত রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে পারে বন্যাদুর্গত এলাকায়। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর প্রস্তুতি ও তৎপরতা নিয়ে ভুক্তভোগী মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রম বৃদ্ধি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণসহ পর্যাপ্ত খাবার পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় বন্যা পরবর্তী সময়ে নানা রোগব্যাধি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা সামাল দেয়া সরকারী চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
জানা গেছে, বিভিন্ন উপজেলার হেলথ কমপ্লেক্সগুলোতে ওষুধপত্রসহ চিকিৎসা সুবিধা অত্যন্ত অপর্যাপ্ত। খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশে অনেকগুলো সরকারী হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে এগুলোর স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় বন্যা উপদ্রুত উপজেলাগুলোর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর অবস্থা রীতিমতো শোচনীয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো স্বাস্থ্য দেবে কিভাবে যখন নিজেরাই তলিয়ে আছে পানির নীচে। এমন পরিস্থিতিতে জেলা সিভিল সার্জন অফিসসহ স্বাস্থ্য বিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে বন্যাপীড়িত মানুষের সহায়তায়।
বন্যা উপদ্রুত এলাকায় অনেকগুলো আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও খাবার ও পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। বন্যার পানি না নামা পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে যথেষ্ট খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করার দিকে প্রশাসনকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। আর বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন ব্যবস্থা নিয়ে এখন থেকে চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসমূহকে।
সর্বোপরি, এভাবে উপর্যুপরি বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণ খুঁজে বের করে সেগুলো দুরীকরণে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। অনেকে এবারে বন্যার কারণ হিসেবে উজানে প্রবল বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি নদী ভরাট হয়ে যাওয়া, মিটামইনে অল ওয়েদার সড়ক নির্মাণকে দায়ী করছেন। আর সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী করছেন খাল ও ছড়ার অবৈধ দখল উচ্ছেদ না করা ও গভীরভাবে খাল খনন না করার বিষয়গুলোকে।
ভুক্তভোগী মহল অবিলম্বে সুরমা নদী খনন, নগরীর খাল-ছড়া পুনরুদ্ধার এবং শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে মনোযোগ ও দৃষ্টি প্রদান জরুরী।




