সুনামগঞ্জে বন্যার মধ্যেই এইচএসসিতে অংশ নিলো ১৮ হাজার শিক্ষার্থী
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ জুলাই ২০২৪, ৮:২১:৪৪ অপরাহ্ন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে বন্যার পানি বাড়িঘরে ঢুকায় কিংবা বিদ্যুৎ ঘন্টার পর ঘন্টা না থাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়াশুনায় মন বসাতে পারেনি। তবুও দুর্ভোগে, দুর্যোগে মন খারাপের দিনগুলোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে এবার ১৮ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। কেউ নৌকা যোগে কেন্দ্রে এসেছেন কেউবা আগের দিনে স্বজনদের বাড়িতে উঠেছেন। বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, আমাদের বাড়ি শহর থেকে বেশি দুরে নয়। বরাবরই এলাকার পরীক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে কেন্দ্রে আসতে পারে। এবার আবহাওয়ার কথা ভেবে আগে থেকে এলাকার পরীক্ষার্থীরা শহরে আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে উঠেছেন। তবে খুব একটা ভাল পড়াশুনা হয়নি শিক্ষার্থীদের বলেও জানালেন তিনি।
গত ৩০ জুন থেকে সারাদেশের সাথে সিলেট বোর্ডের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। যদিও জেলার বন্যা পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হচ্ছে ধীরগতিতে। তবে এখনো অনেক এলাকায় সড়কে পানি থাকায় দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এসব শিক্ষার্থীরা। সড়কে ও বাড়ির আঙিনায় পানি থাকার কারণে অনেকেই পরীক্ষার আগের দিন কেন্দ্রের আশে পাশে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে উঠেছেন।
এবার সুনামগঞ্জ জেলায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ হাজার ১৮০ জন। এইচএসসি পরীক্ষার্থী ১৫ হাজার ৭১৬ জন। পরীক্ষার কেন্দ্র ২২টি। ৬টি কেন্দ্রে আলীম পরীক্ষার্থী ১ হাজার ৭৬ জন। ২টি কেন্দ্রে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট পরীক্ষার্থী ৮৪২ জন এবং ২টি কেন্দ্রে এইচএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার্থী ৫৪৬ জন।
এদিকে, চলমান বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে ও বাড়ির আঙিনায় পানি থাকায় অভিভাবকরা সন্তানের পরীক্ষা নিয়ে অনেকটা উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, বন্যার কারণে পড়াশুনা হয়নি। পরীক্ষায় কতটুকু ভাল করতে পারবে জানিনা।
মোহনপুর ইউনিয়নের তাজ বলেন, বন্যার সময় আমার ঘরে পানি ছিল। মেয়েটি পড়াশুনা করতে পারেনি। এমনকি সারাদিনে এক ঘন্টার জন্য কারেন্ট থাকেনি। পরীক্ষার জন্য শহরে নিয়ে এসেছি। আল্লাহ ভাল জানেন কি লেখে পরীক্ষায়।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কালিপুর গ্রামের এক অভিভাবক জানান, এবারের দুদফা বন্যায় সবচে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি আমরা। এখনও গ্রামের চারপাশে পানি। বন্যার কারণে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। ছেলেটা পড়াশুনায় মনোযোগ নষ্ট হয়ে গেছে। আরও ১০/১৫দিন পেছালে বাচ্চাদের কষ্ট হতনা। তবুও আল্লাহ’র উপর ভরসা করে আমার ছেলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সুনামগঞ্জে এখন বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আনন্দঘন পরিবেশেই ছেলে মেয়েরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। আশা করি বন্যার কোন প্রভাব পড়বে না।





