পেঁয়াজ সিন্ডিকেটেংয়ের অবসান হচ্ছে
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৫:৩৬ অপরাহ্ন

টিসিবি’র তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ। এছাড়া পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি চলছে গত কয়েক বছর যাবৎ। বাজারে পেঁয়াজের দামের ওঠানামা এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। পেঁয়াজ আমদানি নিয়ে তুঘলকি কান্ড তো স্বাভাবিক ব্যাপার। এক সময় ৩০/৩৫ কেজির পেঁয়াজ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছিলো প্রায় আড়াইশ’ টাকা। আর এসবের পেছনে রয়েছে আমদানিকারক মুজতদার সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী এমনকি যে দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়, সে দেশের সরকার ও ব্যবসায়ীদের শোষণমূলক সুযোগ সন্ধানী তৎপরতা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে যে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়, তা সহজেই বাংলাদেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। কিন্তু অনেক পেঁয়াজ যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে পঁচে ও অন্যান্যভাবে নষ্ট হওয়ায়, বাইরে থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, পেঁয়াজ নষ্ট হওয়া বন্ধ করা গেলে দেশে কখনো পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দেবে না। পেঁয়াজ আমদানীও করতে হবে না। এর ফলে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তথা পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি বন্ধ হবে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা পেঁয়াজ সংরক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছেন। তারা প্রাকৃতিক উপায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের কিছু পদ্ধতির পরামর্শ দিয়েছেন। এর একটি হলো, পেঁয়াজ সংরক্ষণে ‘মডেল ঘর’ বা সংরক্ষণাগার নির্মাণ।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ দেশে বছরে পেঁয়াজের মোট চাহিদার পাঁচ-ছয় লাখ টন বেশি উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে ২৫-৩০ শতাংশ নষ্ট হয়। গত বছর পাবনার সাঁথিয়ায় কৃষি বিপনন অধিদপ্তর পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণের দেশীয় মডেল ঘর উদ্বোধন করে। কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণের মডেল ঘর নির্মাণে নেয়া হয়েছে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ ও রসুন সংক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং বিপনন কার্যক্রম উন্নয়ন শীর্ষক একটি প্রকল্প। ২০২১ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ২০২৬ সালে সমাপ্ত হওয়ার কথা। এতে মোট ব্যয় হবে ২৫ কোটি টাকা। ঢাকা, ফরিদপুর, রাজবাড়ি, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, পাবনা এই সাতটি জেলার ১২টি উপজেলায় ৩শ’টি ঘর নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ঘরে ২৫০-৩০০ মন পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ করা যাবে।
দেখা গেছে, জনৈক কৃষকের বাড়ির উঠানে এক শতক জমির ওপর টিনের চাল ও বাঁশের বেড়া দিয়ে একটি মডেল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ১৫টি পাকা খাম্বার ওপর ২৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্ত বিশিষ্ট এই ঘর। মাটি থেকে ৩ ফুট পর পর তিনটি বাঁশের মাচা বানানো হয় ঘরটিতে। ওই মাচার ওপর ছড়িয়ে রাখা হয় পেঁয়াজ। ঘরের নিচে আলো বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঘরের গরম বাতাস বের করার জন্য পেছনে দেয়া হয়েছে ৬টি বৈদ্যুতিক পাখা। ঝড়বৃষ্টি থেকে পেঁয়াজ রক্ষায় চারপাশে রাখা হয়েছে ত্রিপল। ওই ঘরে ৩শ’ মন পেঁয়াজ রাখা যাবে। যা ৬-৯ মাস পর্যন্ত ভালো থাকবে। জানা গেছে, পেঁয়াজ সংরক্ষণের এসব মডেল ঘর থেকে কৃষক ও সংশ্লিষ্ট লোকজন সুফল পেতে শুরু করেছেন। পেয়াজ সংরক্ষণের এই পদ্ধতি দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করা হলে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের ছিনিমিনি খেলা বন্ধ হবে, ক্রেতা সাধারণ রক্ষা পাবেন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির যন্ত্রণা ও দুর্ভোগ থেকে, এমন অভিমত সচেতন মহলের।




