গোয়াইনঘাট সাবরেজিস্ট্রি অফিস দুর্নীতির আখড়া
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ অক্টোবর ২০২৪, ৭:২৮:২২ অপরাহ্ন

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মাসুদ পারভেজ যোগদানের পর থেকে অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে এস আর অফিস। তিনি অভিনব কৌশল অবলম্বন করে দলিলপ্রতি লেইট ফি, আইডি কার্ড, পর্চায় নামের আক্ষরিক ভুল ধরে সংশোধনের পরও ইচ্ছামত টাকা না দিলে দলিল নিবন্ধন করেন না। তার অনিয়মে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব আর এলাকায় জমি নিয়ে বাড়ছে প্রাণঘাতি বিরোধের শঙ্কা।
মঙ্গলবার বিকেল ৫ টায় সরেজমিন অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দলিলদাতা গ্রহীতাদের বাকবিতন্ডা। শত শত লোক জড়ো রয়েছেন। সাবরেজিস্ট্রার তার খাস কামরায় ব্যস্ত রয়েছেন। পিরিজপুর গ্রামের মুসলেখ উদ্দিনসহ কয়েকজন দলিলদাতা বলেন, যথাসময়ে দলিল উপস্থাপিত হলেও বেলা ৩টার পর উনি খাস কামরায় চলে যান। এজলাসে ১৫/২০ মিনিট সময় দিয়ে চলে যান খাস কামরায়। আর আমরা নারী শিশু নিয়ে সারা দিন কষ্ট করছি। অযথা সময় নষ্ট করে ৩ টার পর লেট ফি কৌশলে আদায় করেন।
সকাল ৯টায় আসা সিলেটের শাহপরান এলাকার আল আমিন বলেন, দলিল দিতে এসেছি সঙ্গে বৃদ্ধ মহিলারা রয়েছেন। কিন্তু দলিল নিবন্ধন সারা দিনে হচ্ছে না। এস আর কিছু সময় পরপর খাস কামরায় চলে যান। সন্ধ্যার পর দলিল হলো, এখন মহিলা নিয়ে বাড়ি যেতে পারবো কি না চিন্তায় আছে।
এস আর মাসুদ পারভেজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারী দলিল নিবন্ধে লেট ফি আদায়, পর্চা, আইডিতে আক্ষরিক ভুল বিষয়ে সংশোধিত হওয়ার পরও উৎকোচ গ্রহণ, অফিসে সরকারী কর্মচারী নয় এমন লোক রেখে বখরা আদায় বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বরাবরে আবেদন করেন নয়াখেল গ্রামের আজির উদ্দিন। তারপর থেকে তার দুর্নীতির মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ রয়েছে। দলিল লিখকরা জনভোগান্তি দেখলেও কথা বলতে পারেন না লাইসেন্স হারানোর ভয়ে।
২৯ অক্টোবর বিকেল ৫ টায় অফিসে গিয়ে দেখা যায় অফিস স্টাফ, দলিল লিখকদের নিয়ে খাস কামরায় সভা করছেন সাবরেজিস্ট্রার। আর বাইরে শত শত লোক দলিল নিবন্ধনের জন্য চেঁচামেচি করছেন। এ সময় গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব ও স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি জানতে ঘটনাস্থলে যান। এসময় তিনি বলেন, সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দলিল দাখিল করার সময়। অভিযোগ রয়েছে তিনি নিজেই অফিসে লেট করে আসেন। দুপুরের খাবারে চলে যায় ঘন্টা, দিতে হয় লেট ফি। এ সময় সাবরেজিস্ট্রার সাংবাদিকদের নিউজ না করার অনুরোধ করেন এবং ক্যামেরার সামনে সাক্ষাৎকার দিতেও চাননি। তবে সেবাগ্রহীতাদের সকল অনিয়মের কথা অস্বীকার করেন।
এলাকার ভুক্তভোগিরা এসআর এর অনিয়ম দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষার জন্য এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে সপ্তাহে ৩দিনের বদলে পুরো সপ্তাহ দলিল নিবন্ধন করতে মহানিবন্ধকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।





