নির্বাচনী সংস্কার কতদূর?
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ নভেম্বর ২০২৪, ১২:৫০:৩৮ অপরাহ্ন
এ নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজন নেই : কমিটি প্রধান

জালালাবাদ রিপোর্ট: নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর ১০টি সংস্কার কমিশন হয়েছে। এরমাঝে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে যেটি নিয়ে সেটি হলো ‘নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিটি’। সংস্কারের আগেই গঠিত হয়েছে ইসির সার্চ কমিটি। করা হয়নি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপও। তাই এখন প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচনী সংস্কার আসলে কতদূর?ওদিকে, প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াত সংস্কার নিয়ে বিপরীতমুখী অবস্থানে। জামায়াত চায় নির্বাচনের আগে সংস্কার। আর বিএনপি চায় দ্রুত নির্বাচন।
এ অবস্থায় নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সংস্কারের সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে অংশীজনের সুস্পষ্ট মতামত নিলেও কোনো সংলাপের বসার দরকার নেই।
দলগুলোর সঙ্গে বসবেন (সংলাপে) কিনা প্রশ্ন করা হলে বলেন, আমি মনে করি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো মতবিনিময়ের প্রয়োজন নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে আমরা সুস্পষ্ট মতামত নেব। আমাদের কাজটা হলো কারিগরি। সম্পূর্ণ টেকনিক্যাল। তাদের সঙ্গে কোনো মতবিনিময়ের কিছু নাই বস্তুত। কারণ আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার নেই। বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বে চলতি মাসের শুরুতেই দায়িত্ব শুরু করে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিটি। শুরুতে এই কমিটি নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়োগে সার্চ কমিটি সংক্রান্ত একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করেছিল। কিন্তু এই খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার আগেই সার্চ কমিটি নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিটির একজন সদস্য বিবিসিকে বলেন, এখন হয়তো আমাদের খসড়াটি কোন কাজে আসবে না। তবে একটা অস্বাভাবিক সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। খসড়াটি আইন আকারে চূড়ান্ত হলে পরবর্তীতে রাজনৈতিক সরকারের সময় নির্বাচন কমিশন নিয়োগের বিষয়টি আরো সহজ হবে।
গত প্রায় এক মাসে নির্বাচন ব্যবস্থার বেশ কিছু বিষয় সংস্কারের জন্য চিহ্নিত করেছে এই সংস্কার কমিশন। এসব চূড়ান্ত হলেই হালনাগাদ আইনে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে বলে মনে করছে কমিশনের সদস্যরা। নির্বাচনের জন্য অনেক ধরনের সংস্কার প্রয়োজন হলেও সবগুলো এই সময়ের মধ্যে সম্ভব কী না সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।কমিটির প্রধান মজুমদার বিবিসিকে বলেন, আমরা শুধু সংস্কারের প্রস্তাব দিলেই তো হবে না। এগুলোতে রাজনৈতিক ঐকমত্যও তো দরকার হবে। সংস্কারের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোও জরুরি।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংস্কার ও নির্বাচন কমিশনের কাজ যদি একই সাথে চলে তাহলে খুব বেশি সময় লাগবে না। নির্বাচন বিশ্লেষক জেসমিন টুলি বিবিসিকে বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সীমানা নির্ধারণসহ প্রাথমিক কাজ শেষে তারা রাজনৈতিক দল বা সুশীল সমাজের সাথে সংলাপ করবে। তবে সংস্কার ও ভোট আয়োজনের পরবর্তী কাজগুলো শেষ করতে কতদিন সময় লাগতে পারে সেটি নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে, নির্বাচনি ব্যবস্থা কিংবা সংবিধান কত দিনের মধ্যে সংস্কার শেষে নির্বাচন হবে সে নিয়ে রাজনীতির মাঠেও এক ধরনের ধোঁয়াশা আছে। মঙ্গলবার আসিফ নজরুল সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনমুখী যাত্রা শুরু কথা বললেও ভোটের দিন তারিখ কিংবা নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে কোন কথা বলেননি।
অপরদিকে গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি এই ‘প্রোক্লেমেশন অব রিপাবলিক’ বা রাষ্ট্রীয় ফরমান জারির মাধ্যমে সংবিধান স্থগিতের দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠক করছে।ছাত্র নেতাদের চাপের কারণে যদি শেষ পর্যন্ত সংবিধান স্থগিত হয়, তাহলে কোন সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে সেই প্রশ্নও নতুন করে তৈরি হচ্ছে।অপরদিকে নির্বাচন সংস্কার কমিশনও এমন কিছু পরিবর্তনের কথা বলছে যাতে সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে। এই অবস্থায় সরকার নির্বাচনমূখী যাত্রা শুরু হলে নতুন কোন সংকট তৈরি হবে হবে কী না সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।





