সিলেটে ভোজ্যতেলের সংকট : বিপাকে ক্রেতা!
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ নভেম্বর ২০২৪, ৯:১৪:০৮ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : দুই দফায় ভ্যাট কমানো হলেও বাজারে কমেনি ভোজ্যতেলের দাম। উল্টো সিলেটের বাজারে সৃষ্টি হয়েছে ভোজ্যতেলের সংকট। এজন্য বিভিন্ন কোম্পানীর সরবরাহ কমিয়ে দেওয়াকে দায়ী করছেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা।
এদিকে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত তেল ভেঙ্গে করা হচ্ছে খুচরা বিক্রি। নেয়া হচ্ছে বেশি দাম। ভোগান্তিতে পড়ছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। অনেকের প্রশ্ন- তাহলে ভ্যাট ছাড়ের লাভের টাকা কোথায়?
জাতীয় রাজস্ববোর্ড (এনবিআর) এর নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোজ্যতেল আমদানিতে মূল্য সংযোজন কর কমিয়ে করা হয়েছে ৫ শতাংশ। যার ফলে বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম কমার কথা থাকলেও তা হয়নি। চড়া দামে খোলা বাজারে প্রতি কেজি সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় ও পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮২ থেকে ১৮৭ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও খোলা সয়াবিনের মূল্য ছিলো ১৮৬ টাকা আর পাম তেলের মূল্য ছিলো ১৭৮ টাকা।
নগরীর কয়েকটি বাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, খুচরা দোকানে বোতলজাত তেলের বড্ড সংকট। কেন এই তেলের এতো সংকট জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে খোলা তেল সংকটের কারণে দাম বেশি হওয়ায় বোতলের তেলের চাহিদা বেড়েছে। ৫ লিটারের সয়াবিন তেল ব্যবসায়ীরা ৮১৮ টাকায়, ২ লিটার ৩৩৪ টাকায় ও ১ লিটার তেল ১৬৭ টাকায় বিক্রি করার কথা থাকলেও কোথাও এর বেশী দাম রাখা হচ্ছে।
অপরদিকে ক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। খোলা তেল বেশি দামে বিক্রি করলেও লাভ কম। অথচ বোতলজাত তেল কম দামে কিনে ভেঙ্গে বিক্রি করছেন খোলা তেলের দামে। তাতে বেশি লাভ পাচ্ছেন। কিন্তু না ভেঙ্গে বিক্রি করলে বডি রেটেই তা বিক্রি করতে হয়। সেখানে লাভ কম হয়। এ কারণেই দোকান থেকে সব বোতল সরিয়ে রেখে সংকট তৈরি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। পরে রাতের আঁধারে বোতল ভেঙ্গে দিনের আলোয় খোলা তেল হিসেবে তা বেশি দামে বিক্রি করছেন।
বৃহস্পতিবার নগরীর আম্বরখানা, সুবিদবাজার, মদীনামার্কেট, রিকাবীবাজারের কয়েকটি দোকান ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাহিদানুযায়ী বাজারে খোলা তেলের আমদানী কম। বেশ কিছু দিন ধরে বোতলজাত তেলের জন্য কোম্পানিগুলোকে অগ্রিম টাকা জমা দিয়েও তা পাওয়া যাচ্ছে না।
দোকানে তেল কিনতে আসা খুচরা ক্রেতা আরিফ হোসেন বলেন, বর্তমানে ভোজ্যতেলের দাম এতো বেশি যে, দিশেহারা হয়ে যাই। মধ্যবিত্ত ঘরের মানুষ আমরা। অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আরেক ক্রেতা রওশন আহমদ বলেন, তেল না হলে কোন রান্নাই চলে না। তাই মরি বাঁচি তেল কিনতেই হবে। কিন্তু এর যে দাম! কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা আরিফ হোসেন বললেন, শুনেছি সরকার ভোজ্য তেলের ভ্যাট ছাড় দিয়েছেন। তাহলে দাম কেন কমেনি? উপরন্তু আরও বেড়েছে। ভ্যাট ছাড়ের টাকা তাহলে কার পকেটে?সজিব নামের এক ক্রেতা বলেন, সিন্ডিকেট করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। যে পণ্যের দাম একবার বাড়ে তা আর কমে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কি করেন? তাদের দায়িত্ব কি?
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, বোতলজাত তেলের নতুন মূল্য সংযোজন করে বাজারে ছাড়বে বলেই কোম্পানির অনলাইনে অর্ডার করে টাকা জমা দিয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা সিনিয়র কৃষি বিপণণ কর্মকর্তা আবু সালেহ মোঃ হুমায়ুন কবির দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ কম এই তথ্য আমাদের কাছে আছে। তবে বেশী দামে বিক্রির কোন তথ্য নেই। আমি বৃহস্পতিবারও কয়েকটি বাজার পরিদর্শন করেছি। এমন অভিযোগ পাইনি। এরপরও আমি খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করবো।
সিলেট নগরীর ভোজ্যতেলের অন্যতম শীর্ষ ডিস্ট্রিবিউটর কালিঘাটস্থ আমিন ব্রাদার্সের পরিচালক আমিন উদ্দিন আহমদ তেলের সংকটের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন যাবৎ প্রায় সব কোম্পানী তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। চাহিদার অর্ধেক তেলও তারা সরবরাহ করতে পারছেনা। তবে তেলের দাম বাড়েনি। কোম্পানীর লোকজন বলেছেন আগামী সপ্তাহে ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।





