ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগ : দেখার কেউ নেই
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ৭:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন
তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, জামালগঞ্জ ::
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা শহরের অভ্যন্তরীন সড়ক যোগাযোগের বেহাল দশার কারনে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছেনা। উপজেলা শহর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামীন সড়কে ভাঙ্গাচুরা খানাখন্দের কারণে যাত্রা পথে দুর্ঘটনার শংকা নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে মানুষের। যানবাহনে যাত্রী চলাচলে পাশাপাশি রোগী ও সন্তান সম্ভাবনা মা’য়েদের নিয়ে প্রতিনিয়তই স্বজনরা চরম দুর্ভোগে পোহাচ্ছেন।
অভ্যন্তহীন সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ বছর ধরেই এই দুর্ভোগ সয়ে সয়েই চলতে হচ্ছে উপজেলাবাসীর। অপরিকল্পিত রাস্তা- ঘাট নির্মানে সরকারের লাখ-লাখ টাকা গচ্ছা যাচ্ছে।
উপজেলার শহর ও শহরতলীর রাস্তা-ঘাট ভাঙ্গা চুড়া, খানাখন্দ ও ইট সলিং থাকার কারনে যাত্রী সাধারণ চলাচলে খুব বিপাকে পড়েছেন । সুনামগঞ্জ-সিলেট থেকে জামালগঞ্জ শহরের আসার জামালগঞ্জ অংশের নোওয়াগাঁও বাজার থেথে উপজেলার প্রবেশদ্ধার নতুন পাড়ার প্রধান সড়ক কয়েক বছর থেকে ভাঙ্গাচোরা ও খানা খন্দের কারনে রোগী, বয়ষ্ক মানুষ, সন্তান সম্ভবা মা ও শিশুদের নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন লাখো মানুষ। চাইল্ড কেয়ার স্কুলের পাশে হেলিপেড মাঠে কালভার্ট ভেঙ্গে গেছে। জামালগঞ্জ সেলিমগঞ্জ সড়কে নতুনপাড়ার একটি বক্স কালভার্ট ভেঙ্গে যাওয়ায় প্রায় ১৫ দিন থেকে এই সড়কের বিকল্প পথ হিসেবে হেলিপ্যাড মাঠ দিয়ে কলেজ রোড ও চাইল্ড কেয়ার স্কুলের পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় এই পথগুলো ফাটল ধরে ধুলাবালিতে বায়ু দুষনের প্রভাব পড়েছে। কিছুটা ভারি যানবাহান চলাচলে চাইল্ড কেয়ার স্কুলের পাশে কালভার্টি ভেঙ্গে গেছে।
নয়াহালট গ্রাম থেকে দক্ষিন কামলাবাজ হয়ে খেয়া ঘাট পর্যন্ত, জামালগঞ্জ-সেলিমগঞ্জ সড়কে ভাঙ্গাচোরা খানাখন্দ, জামালগঞ্জ-তেরানগ থেকে লক্ষীপুর ভায়া নাজিমনগর হটামারা গ্রাম, সেলিমগঞ্জ থেকে গজারিয়া বাজার হয়র কামধরপুর বাজারের সড়ক গুলোতে চলা চলে অবর্ণনীয় কষ্টে রয়েছেন এলাকাবাসী।
এই সড়ক গুলোর ভাঙ্গা স্থানে প্রায়ই দুর্ঘটনায় খবর পাওয়া যায়। স্থানীয়রা বলেছেন, এসব সড়কে বিগত কয়েক বছরে অপরিকল্পিত ভাবে প্রায় কোটি টাকার কাজ হয়েছে। যে কোন কাজই টেকসই ও সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা না থাকায় উপজেলার অনেক কাজের দেয়াল ও গাইড ওয়াল ভেঙ্গ পড়ে আছে। এতে প্রতি বছরই সরকারের লাখ-লাখ টাকা গচ্ছা যাচ্ছে। রাস্তা ঘাটের এমন দুর্দশায় নাগরিক সেবার মান তিমিয়েই রয়েছে।
এপথে চলাচলকারী যাত্রী, নবি হোসেন বলেন, নতুন পাড়ার ইট সলিং এর রাস্তাডা কি রাস্তা রইছে। আমরা রিক্সা দিয়া গেলেই বুক কাঁপে। আমরার কষ্ট বুঝার কেউ আছেনি। আল্লার কাছে কই, আল্লাহ যেন দেখে। রিক্সাচালক মাসুক মিয়া বলেন, এই ইট সোলিং এর রাস্তাটার কারণে রিক্সায় অনেক সময় প্যাসেঞ্জার উঠে না। আমরা গরীব মানুষ কি করমু তারপরও রিক্সা চালাইয়া যাই, কত দিন ধইরা এই কষ্ট ভোগ করতাসি, কেউ এইডা খোঁজও নেয় না। অটো গাড়ি চালক জয় মিয়া বলেন, কিতা কইতাম, আমার কওয়ার কিচ্ছু নাই, মনের কষ্ট মনেই থাক। নাজমা বেগম বলেন, ঢাকা থাইকা বাচ্চা-কাচ্ছা নিয়া গ্রামের বাড়িত ঈদ কতে আইছি কোন কষ্ট হইছেনা। শুধু জামালগঞ্জ থাইকা গ্রামের বাড়ি লক্ষীপুর যাইতে আমার সমস্যা অইব। রাস্তার যে অবস্থা কইয়া লাভ নাই। কোনদিন যে আল্লাহয় চলাচলে একটু শান্তি দিবো উপর অলাই জানে।
জামালগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো: সানোয়ার হোসেন এই প্রতিবেদকে বলেন, আমি জামালগঞ্জে নতুন এসেছি কয়েক মাস হলো। এসে রাস্তার এই ভগ্নদশা দেখি। গত ১৪ বছর ধরে জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের জামালগঞ্জ থেকে কাঠইরের জামালগঞ্জ অংশের ১১ দশমিক ৩ শত কিলোমিটারে রাস্তার কাজ শেষ হয়নি ! এ সড়কে মানুষ প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনায় শিকার হচ্ছেন। আমি নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার কে বলে বিশ হাজার ইট ও ইউএনও স্যার কে বলে পঁচিশ সেপ্টি বালু দিয়ে ঈদের পূর্ব দিন পর্যন্ত আমি নিজে ওয়ার্কা এ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়ে উপস্থিত থেকে রাস্তায় কাজ করাচ্ছি। এখন পর্যন্ত চার কিলোমিটার কাজ সংষ্কার হয়েছে। সদর থেকে মান্নান ঘাট রোডের অবস্তাও ভাঙ্গাচোরা, কামলাবাজ-নয়াহালট রোডে কাজ চলমান রয়েছে। উপজেলার অভ্যন্তরিণ সড়কের বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। যখনই বাজেট পাচ্ছি তখনই কাজ করাচ্ছি। বাকী সড়কগুলো সংষ্কারে কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংষ্কারে চেষ্টা চলছে। কর্তৃপক্ষ বরাদ্ধ দিলে, নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা হবে।