বাংলাদেশের জনগণ তাদের ইতিহাসে পুনর্জন্ম প্রত্যক্ষ করেছে : ড. ইউনূস
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১১:০০:০৯ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক ::
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের ইতিহাসে এক নতুন পুনর্জন্ম প্রত্যক্ষ করেছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আয়োজিত বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে নৃশংস সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে নয় মাস ধরে চলে গণহত্যা। লাখো নারী-পুরুষ ও শিশুর আত্মত্যাগে স্বাধীনতার যে স্বপ্ন ছিল, তা ছিল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও মুক্ত সমাজ গঠনের। কিন্তু দুঃখজনকভাবে গত ১৫ বছরে দেশের যুবসমাজ তাদের অধিকার হারাতে বসেছে। প্রায় ২ হাজার নিরীহ মানুষের জীবনহানি হয়েছে, যাদের মধ্যে ১১৮ জন শিশু।”
ড. ইউনূস আরও বলেন, “শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে যারা দেশকে মুক্ত করেছে, সেই ছাত্রনেতারা আমাকে অনুরোধ করেছেন এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেতৃত্ব দিতে। আমি জনগণের স্বার্থে সেই দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত হয়েছি।”
বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আমি আনন্দিত। প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এটি আমার প্রথম সরাসরি আলাপচারিতা। বিমসটেক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে থাইল্যান্ড সরকার ও মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের জনগণের পাশে আছে।”
বিমসটেক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। এতে বাংলাদেশসহ ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের সরকার প্রধানরা অংশ নেন। সম্মেলনের লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে নিরাপত্তা ও উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।
এবারের সম্মেলনে স্বাক্ষরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি হচ্ছে সমুদ্র পরিবহন সহযোগিতা চুক্তি, যার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বাণিজ্য ও যাত্রী পরিবহন বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংকীর্ণ রাজনীতি থেকে সরে এসে সদস্য দেশগুলো যদি আন্তঃআঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, তবে বিমসটেক বিশাল সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করতে পারবে।
উল্লেখ্য, বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যা ১৬৭ কোটি এবং মোট জিডিপি প্রায় ২.৮৮ ট্রিলিয়ন ডলার। আগামী মেয়াদে বাংলাদেশই বিমসটেকের নেতৃত্বে আসছে।