হাসিনাকে ফেরত চাইলো বাংলাদেশ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ৯:৩৫:০৩ অপরাহ্ন
অবশেষে ড. ইউনুস-নরেন্দ্র মোদী বৈঠক
সীমান্ত হত্যা, গঙ্গা চুক্তি নবায়ন ও তিস্তা নিয়ে আলোচনা
জালালাবাদ রিপোর্ট: আগস্টে শেখ হাসিনার শাসনের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে অবশেষে প্রথমবারের মত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। অনেক জল্পনার এ বৈঠক ঘিরে সবার চোখ ছিলো থাইল্যান্ডের ব্যাংককে।ব্যাংককের সাংগ্রিলা হোটেলে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি ৪০ মিনিট স্থায়ী হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের আট মাসের মাথায় হাই প্রোফাইলস এ বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গ তুলেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস।বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, ভারতে বসে (শেখ হাসিনা) বিভিন্ন ইনসেনডিয়ারি (আক্রমণাত্মক) মন্তব্য করছেন, সেসব বিষয়ে কথা বলেছেন। এছাড়া সীমান্ত হত্যা, গঙ্গা চুক্তি নবায়ন এবং তিস্তা নদীর পানিবন্টন নিয়েও কথা হয়েছে।
বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনে আবদ্ধ। ১৯৭১ সালে আমাদের কঠিন সময়ে ভারত সরকার ও জনগণের অকুন্ঠ সমর্থন আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি।বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস ভারতের কাছে বিচারাধীন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে জানতে চান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন, যা ভারতের আতিথেয়তার অপব্যবহার।
অধ্যাপক ইউনূস ওএইচসিএইচআর-এর একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের দ্বারা সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলা হয়েছে। তিনি জানান, ওই প্রতিবেদনে আনুমানিক এক হাজার ৪০০ জন বিক্ষোভকারীকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের ১৩ শতাংশই শিশু। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার নির্দেশে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির উদ্বেগের জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবর অতিরঞ্জিত এবং বেশিরভাগই ভুয়া। তিনি এই বিষয়ে তদন্তের জন্য ভারতীয় সাংবাদিকদের বাংলাদেশে পাঠানোর আহ্বান জানান। অধ্যাপক ইউনূস জানান, ধর্মীয় ও লিঙ্গ সহিংসতার প্রতিটি ঘটনার ওপর নজরদারি করার জন্য তার সরকার একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালু করেছে এবং এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার এই বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক হয়েছে। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যতগুলো ইস্যু আছে, তার সব কটি নিয়ে কথা হয়েছে। দুই শীর্ষ নেতার আলোচনা ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে প্রতিবেশী দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠক নিয়ে বাংলাদেশ এবং ভারতের গণমাধ্যমে আলোচনা ছিল।
বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইনে দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ঢাকায় কর্মকর্তারা। গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হলেও, ভারতীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেননি বিষয়টি। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এক ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল বৈঠকটি নিয়ে।
নরেন্দ্র মোদীর সাথে এই বৈঠকে এক দশক আগের স্মৃতিময় এক ছবি তাকে উপহার দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস।