চুনারুঘাটে নিখোঁজের সাতদিন পর লাশ উদ্ধার
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ এপ্রিল ২০২৫, ৫:৫৪:২৬ অপরাহ্ন
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে নিখোঁজের ৭ দিন পর উপজেলার কাপাইছড়া চাবাগানের গহীন জঙ্গল থেকে বালি খুঁড়ে লিটন মিয়া (৩৮) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের কাপাইছড়া চা বাগানের ৯নং টিলার ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। লিটন মিয়া মাধবপুর উপজেলার গোয়াছনগর এলাকার ছায়েদ আলীর ছেলে।
থানা পুলিশ ও নিহত লিটনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল সাতছড়ি বনে লাকড়ি সংগ্রহের কথা বলে বাড়ি থেকে বেড় হন। দীর্ঘ ৭দিন বাড়িতে ফিরে না এলে পরিবারের লোকজন বুধবার চুনারুঘাট থানাকে অবগত করেন। খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানার ওসি নুর আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনার ক্লু উদঘাটনে মাঠে নামে। পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কাপাইছড়া চা-বাগানে অভিযান চালিয়ে প্রমোদ রিকমন (৩২) নামে এক ঘাতককে গ্রেপ্তার করেন।
প্রমোদ কাপাইছড়া চাবাগানের মঙ্গল রিকমনের পুত্র। পরে রাতেই প্রমোদকে সঙ্গে নিয়ে তার দেওয়া তথ্যমতে পাহাড়ি এলাকার কাপাইছড়া চা বাগানের ৯নং টিলার ভেতরে বালুচাপা দিয়ে রাখা খুঁড়ে লিটন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘাতক প্রমোদ রিকমন পুলিশকে বলেন তার ১০টি গরু চুরি হয়েছে। ৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় কাপাইছড়া বাগানে লিটনকে গরু চুরি সন্দেহে ৫জন মিলে আটক করে মারপিট করেন। একপর্যায়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যায় এবং লিটনের মৃত্যু হয়। এরপর প্রমোদ রিকমন সহ ৫ জন মিলে নিহত লিটনের লাশ মাটিতে পুঁতে রেখে চলে যান। মাধবপুর সার্কেলের এএসপি মো: সালিমুল হক বলেন, আটক ঘাতককে সঙ্গে নিয়ে চা বাগানের ৯নং টিলায় বালিখুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ১২ ঘন্টার মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তারের পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
চুনারুঘাট থানার ওসি মোঃ নুর আলম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে আরও যারা জড়িত তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।