ভারতে বিমান বিধ্বস্ত, ২৪২ আরোহীর সবাই নিহত
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ জুন ২০২৫, ৯:৫০:০৫ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪২ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম নিউজ-১৮ এ তথ্য জানিয়েছে। এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের উদ্দেশে বিমানটি রওনা দেয়। উড্ডয়নের মাত্র পাঁচ মিনিট পর আহমেদাবাদের মেঘানি অঞ্চলের আবাসিক এলাকায় চিকিৎসকদের হোস্টেলের ওপর এটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে থাকা ২৪২ আরোহীর মধ্যে ২৩২ জন ছিলেন সাধারণ যাত্রী এবং ১০ জন ছিলেন ক্রু সদস্য। বিমানটিতে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, ৭ জন পর্তুগিজ এবং একজন কানাডিয়ান নাগরিক যাত্রী হিসেবে ছিলেন।
এ সময় অন্তত ৫ মেডিকেল শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যারা এসময় হোস্টেলে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। বোয়িং ৭৮৭ মডেলের কোনো উড়োজাহাজ এর আগে কখনো এভাবে ভেঙে পড়েনি। ফ্লাইট সেফটি বিশেষজ্ঞ মার্কো চ্যান জানিয়েছেন, উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় আবহাওয়া স্থিতিশীল ও আকাশ পরিষ্কার ছিল।
ফ্লাইট রাডারের তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সেটি থেকে সংকেত পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় উড়োজাহাজটি ৬২৫ ফুট ওপরে উঠেছিল।
প্রধান উপদেষ্টার শোক: এদিকে ভারতের এই বিমান দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার তিনি এক শোকবার্তায় বলেন, ‘আহমেদাবাদে ২৪২ জন যাত্রীবাহী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমরা স্তব্ধ। শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের জন্য আমরা প্রার্থনা করছি।
এই কঠিন সময়ে ভারত সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সম্পূর্ণ সহমর্মিতা রইল। বাংলাদেশ সব সময় ভারতের পাশে আছে’। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে এ তথ্য জানান।
বিপদ বুঝেছিলেন পাইলট: বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের প্রধান পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন সুমিত সাবহারওয়াল ও সহকারী পাইলট ছিলেন ক্লাইভ কুন্ডার। উড্ডয়নের পরপরই বিমানে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, যে কারণে দ্রুত নিচে নামতে গিয়ে উড়োজাহাজটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
বিধ্বস্ত হওয়ার আগে ‘মে ডে’ কল দিতে পেরেছিলেন উড়োজাহাজের পাইলট। সাধারণত বিপদে পড়লে উড়োজাহাজের চালকেরা এই কল দিয়ে থাকেন। তবে কল দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মে ডে কল দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিমানটি বিধস্ত হয়। এখনো কোনো হতাহতের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে ২৪৪ আরোহীর কেউই বেঁচে নেই।
আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের টার্মিনাল -এক এর ব্যবস্থাপক বিবিসিকে বলেছেন, বিমানবন্দরের বাইরে থেকে ধোঁয়া দেখতে পান তারা। তার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় সবাই।

৫ মেডিকেল শিক্ষার্থী নিহত: এদিকে আহমেদাবাদে বি জে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের ওপর উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন মেডিকেল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। দুপুরের খাবারের সময় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। ওই সময় বি জে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্যানটিনে মধ্যাহ্নভোজ করছিলেন। দুর্ঘটনার পর তোলা ছবিতে হোস্টেলের ক্যানটিনে টেবিলের ওপর খাবারের থালা ও গ্লাস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের কিছু অংশ বি জে মেডিকেল হোস্টেলের ভবন ভেদ করে ভেতরে এবং কিছু অংশ বাইরে ঝুলে থাকতে দেখা গেছে।
এই প্রথম এভাবে বিধ্বস্ত হল বোয়িং ৭৮৭: এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনার শিকার বোয়িং ৭৮৭ মডেলের কোনো উড়োজাহাজ এর আগে কখনো এভাবে ভেঙে পড়েনি। বোয়িং ৭৮৭ মডেলের উড়োজাহাজটি ‘ড্রিমলাইনার’ নামেও পরিচিত, যা ১৪ বছর আগে আকাশে উড্ডয়ন করে। মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে উড়োজাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানটি মডেলটির ১০০ কোটি যাত্রী পরিবহনের মাইলফলক উদযাপন করেছে।
সে উপলক্ষে কোম্পানিটি জানিয়েছিল, বিশ্বজুড়ে ১ হাজার ১৭৫টির বেশি ৭৮৭ মডেলের উড়োজাহাজ প্রায় ৫০ লাখ ফ্লাইট সম্পন্ন করেছে। এ সময় মডেলটির ফ্লাইটগুলো তিন কোটি ঘণ্টার বেশি সময় আকাশে ছিল। এ দুর্ঘটনা বোয়িংয়ের জন্য বড় একটি ধাক্কা। এমন এক সময়ে এ দুর্ঘটনা ঘটল, যখন কোম্পানিটি ৭৩৭ সিরিজের উড়োজাহাজ নিয়ে বিভিন্ন জটিলতা ও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এ দুর্ঘটনা বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কেলি ওর্টবার্গের জন্যও একটি বড় পরীক্ষা। শিগগিরই তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পূর্ণ হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির নানা সমস্যা সমাধানে সাহায্য করার জন্যই কেলিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এসব সমস্যার কারণে কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল।





