টেস্ট ক্রিকেটের রজতজয়ন্তী : সিলেটে ক্রিকেট উৎসবে বিসিবি সভাপতি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ জুন ২০২৫, ১১:১৮:৫৪ অপরাহ্ন
স্পোর্টস রিপোর্টার : টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। এখন তাঁর সামনেই দেশের টেস্ট ক্রিকেটের বড় এক উপলক্ষ হাজির-বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদাপ্রাপ্তির রজতজয়ন্তী। ২০০০ সালের ২৬ জুন দশম দল হিসেবে আইসিসি থেকে টেস্ট খেলার চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছিল বাংলাদেশ।
গত মাসে বিসিবিপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়া আমিনুল বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা প্রাপ্তির ২৫ বছর পূর্তির উপলক্ষকে স্মরণ করতে কয়েকটি কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। ‘তৃণমূলে ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার’ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্যও এই রজতজয়ন্তী উদ্যাপনকে কাজে লাগাতে চাইছেন আমিনুল।
এর অংশ হিসেবে সিলেট সফর করলেন নতুন বিসিবি সভাপতি। তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভিশনারি প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে তার এ সফর। এ উপলক্ষে সোমবার সিলেটে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী ক্রিকেট উৎসব।
সকাল থেকেই স্টেডিয়ামে ভিড় করেন শতাধিক ক্ষুদে ক্রিকেটার। সাদা পোশাকে মাঠে নেমে তারা যেন প্রত্যেকে একেকজন স্বপ্নবাজ টাইগার। কেউ হতে চায় তামিম, কেউ বা মুশফিক। অনেক অভিভাবকও অংশ নেন ক্রিকেট বিষয়ক প্রাথমিক প্রশিক্ষণে।
আয়োজনে ছিল স্পিন ও পেস বোলার হান্ট, কমেন্ট্রি বুথে ঐতিহাসিক মুহূর্তে ধারাভাষ্য দেওয়ার অভিজ্ঞতা, হিট দ্য স্ট্যাম্প প্রতিযোগিতা এবং টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের গৌরবগাথা নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।
এই আয়োজনকে ঘিরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় কোচরা। তাদের দাবি, এমন উৎসব নিয়মিত আয়োজন করা হলে ভবিষ্যতে এখান থেকেই উঠে আসবে জাতীয় দলের সম্ভাবনাময় তারকারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মোঃ রেজা-উন-নবী। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের ক্রিকেট উন্নয়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এর আগে সোমবার বিমানবন্দরে নেমে প্রথমেই সিলেটসহ বিভাগের জেলাগুলোতে কী ধরনের ক্রিকেট খেলা হয়, সে বিষয়ে খোঁজ নেন বিসিবি সভাপতি। এরপর তিনি সিলেটের সাবেক কৃতি ক্রিকেটার ও সংগঠকদের খোঁজ নেন, ফোনে কথা বলেন।
এরপর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন। তিনি প্রতিটি বিভাগ ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং স্টেডিয়ামের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন। এসময় তিনি ক্রিকেটের নানা বিষয়ে কথা বলেন। কীভাবে তিনি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রিকেট খেলাকে ছড়িয়ে দিতে চান-তাঁর পরিকল্পনার কথা জানান। এছাড়া কীভাবে আরও বেশি দক্ষ কোচ তৈরি করা যায় এবং যেসব কোচ বর্তমানে কাজ করছেন, তাদের দক্ষতা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, এসব বিষয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন সিলেটের ক্রিকেট কর্তাদের সাথে। মাঠে হেঁটে তিনি প্র্যাকটিস ফ্যাসিলিটি বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান।
এরপর স্টেডিয়ামে সুযোগ পেয়ে একটু ক্রিকেট খেললেন দেশের ক্রিকেটের এই কিংবদন্তি, সেখানে তার ট্রেডমার্ক শট প্যাডেল সুইপও মারলেন।
সিলেটের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা বললেন, বিসিবি সভাপতি বুলবুলের এই সফর সিলেটের তৃণমূল ক্রিকেটের প্রসারে নতুন উদ্দিপনার সৃষ্টি করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টেস্টে মর্যাদার ২৫ বছর উপলক্ষে ২১ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ৭ বিভাগীয় শহরে বেশ কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে আছে অনূর্ধ্ব-১২ পর্যায়ের সিক্স এ সাইড প্রতিযোগিতা। এছাড়া বিভাগীয় শহরে একজন কোচও থাকবেন। ‘প্যারেন্টাল/ফ্রি ফর অল কোচিং সেন্টার’ নামের আয়োজনের মাধ্যমে আগ্রহী অভিভাবকদের ক্রিকেট কৌশল ও খেলার মূল ধারণা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে।
একই সময়ে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য পেসার ও স্পিনার হান্টের আয়োজনও করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র দেখিয়ে এতে অংশ নেওয়া যাবে। প্রতিটি ভেন্যুতে একটি করে কমেন্ট্রি বুথও থাকবে। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মুহূর্তের ভিডিওগুলো সেখানে উপস্থাপন করা হবে। আগ্রহী দর্শকরা চাইলে ভিডিওর ওপর ধারাভাষ্য দিতে পারবেন।
টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোর ছবি আঁকার জন্য একটি ছবি আঁকা প্রতিযোগিতারও আয়োজন করছে বিসিবি। দর্শকদের জন্য থাকবে হিট দ্য স্টাম্প চ্যালেঞ্জ। এছাড়া দর্শকরা চাইলে ‘গুড লাক উইশ’ বোর্ডে নিজেরা তাঁদের বিশেষ বার্তা ও শুভকামনা জানিয়ে যেতে পারবেন।





