থমকে আছে ওসমানী বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজ
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ জুলাই ২০২৫, ১০:১২:১২ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : ভূল নকশা আর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) গাফিলতিতে থমকে আছে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজ। কাজ বন্ধ থাকার কারণে ৪ বছর ধরে অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে সরঞ্জাম। মাটিতে দীর্ঘ দিন পড়ে থাকার ফলে রডের মানও নষ্ট হচ্ছে। ফলে এটি গঠনগত দুর্বলতা ও যাত্রী নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অনিয়ম ও বিলম্বের তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, মাটিচাপা রডের অবস্থা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রতিস্থাপন, প্রকল্পের নকশা ও ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন ও দ্রুত কাজ শুরু করে প্রকৃত অগ্রগতির মাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।তবে প্রকল্প পরিচালক বলছেন, নতুন নকশা হালনাগাদ করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। আশা করি, খুব শিগগির একনেকে উঠবে প্রকল্প।
তথ্য মতে, ২ হাজার ১১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালের ২৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু। ২০২৩ সালের মে মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর করা হয়। বর্ধিত প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চললেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৬.০৩ শতাংশ। যদিও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বেইজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপকে অগ্রিম ২১২ কোটি টাকা প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, কাজ শুরু হওয়ার নকশায় ক্রটি ধরা পড়লে উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অনুমোদিত নকশা আইকাও এর স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী না হওয়ায় পুনরায় নকশা করে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পুন:নকশায় প্রকল্পের প্রস্তাবিত বাজেটও বেড়েছে। কিন্ত অজ্ঞাত কারণে ৫ বছর ধরে প্রকল্পটি পাস হচ্ছে না বলে অভিযোগ সিলেটের বিশিষ্টজনের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের যাত্রী ও কার্গো টার্মিনালের মূল রেইনফোর্সমেন্ট রড চার বছর ধরে মাটির নিচে অরক্ষিতভাবে পড়ে রয়েছে। এখনও সেগুলোর উপর কংক্রিট ঢালাই হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে মাটির নিচে রড পড়ে থাকায় তা ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভবিষ্যতে গঠনগত দুর্বলতা ও যাত্রী নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হতে পারে।
জানা যায়, গত এপ্রিল মাসে বাণিজ্য উপদেষ্টা জনাব শেখ বশির উদ্দিন নিজে বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন এসে আশ্বাস দিয়েছিলেন, শিগগিরই কাজের গতি ফিরবে। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকল্প এলাকায় কোনো কার্যকর অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। রড আগের মতোই মাটিতে পচে যাচ্ছে, কংক্রিট ঢালাই হয়নি, নির্মাণ সামগ্রী অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশ (আটাব) সিলেটের সাবেক সভাপতি আবদুল জব্বার জলিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাঠানো প্রধান উপদেষ্টাকে দেওয়া স্মারকলিপিতে বলেন, সিলেট অঞ্চলের কমপক্ষে ২৫ লাখ প্রবাসী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন এবং তারা প্রতিনিয়ত রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, কাতারসহ বিশ্বের বহু দেশে অবস্থানরত এই প্রবাসীরা সরাসরি সিলেটে অবতরণের সুবিধা না পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে ভোগছেন। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময় ওসমানী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও সিভিল এভিয়েশনের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, ঢাকার কিছুসংখ্যক দুর্নীতিবাজ ট্রাভেলস এজেন্সির মালিক ও হোটেল মালিক মিলে গঠিত সিন্ডিকেট সেই উদ্যোগ সফল হতে দেয়নি।
আবদুল জব্বার জলিল স্মারকলিপিতে বলেছেন, সিলেট থেকে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালু হলে সিলেটের প্রবাসীরা সরাসরি সিলেট থেকে যাতায়াত করতে পারবেন। এতে ঢাকার ট্রাভেল এজেন্সি ও হোটেল মালিকেরা সিন্ডিকেট করে অর্থ লুটপাটের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।
প্রকল্প পরিচালক মইদুর রহমান মো. মওদুদ জালালাবাদকে বলেন, ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও) মানদন্ড অনুযায়ী নকশা হালনাগাদ করা হয়েছে। প্রথম নকশার চেয়ে কিছুটা পরিবর্তন রয়েছে পুন:নকশায়। প্রকল্পটি একনেকে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।





