বড়গুলে মাদ্রাসা শিক্ষক, খাদিমনগরে যুবক খুন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ আগস্ট ২০২৫, ৯:১৩:০৮ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট নগরীর ৩৭ নং ওয়ার্ডের বড়গুল এলাকায় মাওলানা যুবায়ের আহমদ (৪৫) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি বড়গুল এলাকার মদরছিল আলীর ছেলে এবং স্থানীয় ড. তানজিনা আহমদ দাখিল মাদ্রাসার সুপার।
অপরদিকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানের কাছে বুরজান চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় আজাদুর রহমান আজাদ (২৫) নামের এক যুবক খুন হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে পায়ে হেঁটে বড়গুল গ্রামে অবস্থিত ড. তানজিনা আহমদ দাখিল মাদ্রাসায় যাচ্ছিলেন মাওলানা যুবায়ের আহমদ। মাদ্রাসার যাওয়ার পথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয় নয়ন আহমেদ চাকু দিয়ে অতির্কত হামলা চালায় মাওলানা যুবায়ের আহমদের উপর। এসময় নয়নের উপর্যপুরী আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মাদ্রাসা শিক্ষক যুবায়ের। পরে তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের লাশের ময়না তদন্ত শেষে নিজগ্রামে দাফন করা হবে।
এই ঘটনায় নিহত মাওলানা যুবায়ের আহমদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে মাওলানা যুবায়ের আহমদকে হত্যার ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানা পুলিশ। নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে হত্যার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ।
জালালাবাদ থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ জালালাবাদকে বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে। কিছুদিন আগে মাওলানা যুবায়ের আহমদ প্রতিবেশী নয়নকে নিজের ছেলের সঙ্গে মিশতে নিষেধ করেন। এ ঘটনার রেশ ধরে মাওলানা যুবায়ের আহমদ আজ মাদ্রাসায় যাওয়ার পাথে নয়ন রাস্তার ময়লা পানি ছিটা দেয়, এতে তাঁর কাপড় নস্ট হয়ে যায়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নয়ন তাঁকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এছাড়া প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকান্ডে জিহাদ নামের আরেকটি ছেলের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। আসামী দুইজনকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন বুরজান চা বাগান সংলগ্ন খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানের কাছে আজাদুর রহমান আজাদ (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত আজাদ গোয়াইনঘাট উপজেলার বিন্নাকান্দি গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। এসময় আজাদের সঙ্গে থাকা আরেক যুবক গুরুতর আহত হন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, মাত্র ১৫০০ টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের দেলোয়ার উরফে ধান্দা দেলু ও তার সহযোগীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আজাদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি সৈয়দ আনিছুর রহমান বলেন, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ের জেরে এই হত্যাকা-ের ঘটনাটি ঘটেছে। খুনীরা শনাক্ত হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এ ব্যাপারে এসএমপির মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য নিহত দুইজনের লাশ ওসমানী হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুটি ঘটনায় জড়িত খুনীরা শনাক্ত। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।





