সাহসী বক্তব্য বটে!
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ আগস্ট ২০২৫, ১২:৩৫:০১ অপরাহ্ন

সম্প্রতি মিডিয়ায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের একটি বক্তব্যে বিশ^ব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনীর বলেছেন, ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তান যদি অস্তিত্ব সংকটে পড়ে, তবে আমরা বিশে^র অর্ধেক সঙ্গে নিয়ে ধ্বংস হবো। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ফ্লোরিডায় সম্প্রতি আয়োজিত এক নৈশভোজে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, আমরা পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। যদি আমাদের মনে হয়, আমরা ডুবে যাচ্ছি (ধ্বংস হচ্ছি), তাহলে আমাদের সঙ্গে বিশে^র অর্ধেককে নিয়ে ডুববো। ভারতের সিন্ধু নদের উপর বাঁধ বা অন্য কোন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে মুনীর কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘এমন কিছু হলে পাকিস্তান সেটি ধ্বংস করতে দ্বিধা করবে না, কারণ তাদের মিসাইলের কোন ঘাটতি নেই। তার ভাষায়, আমরা অপেক্ষা করবো ভারত বাঁধ তৈরী করুক, আর তৈরী করলেই দশটি মিসাইল দিয়ে তা ধ্বংস করবো। সিন্ধু নদ ভারতীয়দের পারিবারিক সম্পত্তি নয়, আমাদের মিসাইলের কোন অভাব নেই, ‘আলহামদুলিল্লাহ’। মাস তিনেক আগে চার দিনের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ প্রসঙ্গে ধর্মীয় উদ্ধৃতি টেনে মুনির বলেন, এটি পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঘন, যেখানে নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের শাহাদাত ঘটেছে। তিনি আবারও ঘোষণা করেন, কাশ্মীর পাকিস্তানের ‘জীবনীশক্তির শিরা’।
বলা বাহুল্য, পাকিস্তানী সেনাপ্রধানের উপরোক্ত হুমকিমূলক হুশিয়ারী ও ঘোষণার মূলে দু’টি কারণ লক্ষনীয়। এর একটি হচ্ছে, পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার অজুহাতে ভারত কর্তৃক পাকিস্তানের সাথে সিন্ধু নদীর পানি চুক্তি স্থগিত করণ। তার ভাষায়, সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করায় ২৫ কোটি মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সালিশী আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, সিন্ধু নদীর পানিপ্রবাহ ভারতকে বাধামুক্ত রাখতে হবে। বিশেষ করে সিন্ধু অববাহিকায় পশ্চিমাঞ্চলীয় ৩ নদী, যেগুলো পাকিস্তানের ভূখন্ডে পড়েছে-সেগুলোতে পানির প্রবাহকে মুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে আদালত ভারতকে সিন্ধু পানি বন্টন চুক্তিতে ফিরে আসার আহবানও জানিয়েছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পাকিস্তান প্রত্যাশা করছে যে, ভারত সিন্ধু পানিবন্টন চুক্তি স্বাভাবিক করার কার্যক্রম শুরু করবে এবং বিশ^স্ততার সঙ্গে চুক্তির বাধ্যবাধকতা পূরণ করবে।
বলা বাহুল্য, ভারত একটি আগ্রাসী দেশ, যার সাথে তার কোন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সুসম্পর্ক নেই। আর এজন্য দায়ী ভারত নিজেই। জনৈক সামরিক বিশ্লেষকের ভাষায়, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রতিবেশী সম্পর্কগুলো উগ্র জাতীয়তাবাদ, সীমান্ত বিরোধ এবং অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ক্রমাগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। চীন, নেপাল, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ এই দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য একটি বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোদির নেতৃত্বে ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ এবং এর ফলে ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যে পানিচুক্তি নিয়ে ভারত পাকিস্তানের সাথে মারাত্মক দ্বন্দ্বে লিপ্ত, সেই পানি নিয়ে দেশটি বাংলাদেশের সাথে চরম অমানবিকতা ও স্বার্থপরতা প্রদর্শন করে চলেছে যুগ যুগ ধরে। এ অবস্থায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের স্পষ্ট ও মারাত্মক হুমকি প্রদানের বিষয়টিকে ভারত কর্তৃক নির্যাতিত ও নিপীড়িত অনেক মানুষ স্বাগত জানিয়েছেন। ভারতের মতো একটি আগ্রাসী দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রকে চীন ও পাকিস্তান শায়েস্তা করুক, এমনটি প্রত্যাশা করেন তারা। যদিও কোন পারমানবিক শক্তিধর দেশ কর্তৃক এ ধরনের হুমকি ধামকি এবং পরমানু যুদ্ধের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি কোন শান্তিকামী ও বিবেকবান মানুষ সমর্থন করেন না, তবুও শক্তির ভারসাম্য রক্ষা ও বড়ো ধরনের যুদ্ধ এড়াতে পরমাণু শক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। ভারত পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এই হুমকিতে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করে পানি নিয়ে অগ্নিখেলা বন্ধ করবে, এমন প্রত্যাশা বাংলাদেশসহ বিশ^বাসীর।



