৪ দিনে উদ্ধার ৪ লাখ ঘনফুট পাথর
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ আগস্ট ২০২৫, ৯:৩৯:০৪ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সাদাপাথরসহ সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন স্পট থেকে লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রোববারও দিনভর চলেছে অভিযান। পৃথক অভিযানে আরো ১৫ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধারের পাশাপাশি ২ জনকে আটক করা হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ৪ দিনে লুট হওয়া ৪ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে পুনস্থাপন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ঘনফুট পাথর। একই সাথে জাফলং থেকে লুট হওয়ার পাথর উদ্ধারের পাশাপাশি ৫০টি নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে সাদাপাথরের পাথর লুটের ঘটনা তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। আরও তিনদিন সময় বাড়ানো হয়েছে। তদন্ত কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে এ সময় বৃদ্ধি করা হয়। আগামী বুধবার (২০ আগস্ট) তাদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
রোববার (১৭ আগস্ট) তদন্ত কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনদিন সময় বাড়ানো হয় বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিলেট সদর উপজেলার সালুটিকর ভাটা এলাকায় মাটিচাপা অবস্থায় অন্তত ১১ হাজার ঘনফুটেরও বেশি পাথরের জব্দ করেছে যৌথ বাহিনী। এসময় পাথর লুটের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ জনকে আটক করা হয়েছে।
রোববার (১৭ আগস্ট) সকালে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে- আরডিসি আশিক মাহমুদ কবিরের নেতৃত্বে অভিযানে নামে যৌথ বাহিনী। অভিযানে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযানের এক পর্যায়ে ধোপাগুল সংলগ্ন সালুটিকর ভাটা এলাকায় একটি ক্রাশার মিলের আঙ্গিনায় মাটিচাপা অবস্থায় পাথরের সন্ধান পায়। জব্দকৃত পাথরের পরিমান আনুমানিক ১১ হাজার ঘনফুট হতে পারে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান কর্মকর্তারা।
এর আগে, শনিবার ধোপাগুল এলাকার বসতবাড়ি ও ক্রাশার মিলে অভিযান চালিয়ে আড়াই লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। একইদিনে গোয়াইনঘাটের ফতেপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি এলাকা থেকে ২৫০০ ঘনফুট সাদা পাথর জব্দ করা হয়। শনিবার গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারীর নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।
এর আগে, গেলো সপ্তাহে টানা কয়েকদিন প্রকাশ্যে পাথর লুটপাটের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর, ১৩ আগস্ট থেকে লুট ঠেকাতে ও পাথর উদ্ধারে কঠোর অবস্থানে নামে প্রশাসন। গত চার দিনে প্রায় চার লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, সম্প্রতি সিলেটের সাদাপাথর এবং জাফলং পর্যটনকেন্দ্রের লাখ লাখ ঘনফুট পাথর লুটের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় সারাদেশে। নড়েচড়ে বসে সরকার। এমনকি রিট হয় উচ্চ আদালতেও। আদালত লুন্টিত পাথর উদ্ধার করে যথাস্থানে প্রতিস্থাপনেরও নির্দেশ দিয়েছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে সিলেটসহ সারাদেশে শুরু হয় সাঁড়াশি অভিযান। উদ্ধার হয় অন্তত ৪ লক্ষাধিক ঘনফুট পাথর। গত ১২ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত হয় একটি তদন্ত কমিটি। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহকে প্রধান করে গঠিত কমিরি অপর দুই সদস্য হলেন পাথর লুটের ঘটনায় বিতর্কিত কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহার ও পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারি পরিচালক আফজালুল ইসলাম।
পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে রোববার (১৭ আগস্ট) এ কমিটির রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল। তবে তা আর হয়নি। প্রয়োজনীয় কাজ শেষ না হওয়ায় কমিটি জেলা প্রশাসকের কাছে আরও তিনদিন সময় চেয়েছেন এবং তা মঞ্জুরও হয়েছে। সেই হিসাবে তদন্ত কমিটি আগামী বুধবার তাদের রিপোর্ট জমা দিবেন।
কমিটির অন্যতম সদস্য পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারি পরিচালক আফজালুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, রোববার (আজ) রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা থাকলেও আমাদের আরও কয়েকদিন সময় প্রয়োজন। সময় বৃদ্ধির আবেদন করায় তা মঞ্জুর হয়েছে এবং আগামী বুধবার আমরা প্রতিবেদন জমা দিবো।
গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং পর্যটন স্পট জিরোপয়েন্ট থেকে চুরি হওয়া পাথর উদ্ধারে সিলেট জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রোববার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০ টা থেকে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, মো. ফরহাদ উদ্দিনের নেতৃত্বে দুপুর ২ টা পর্যন্ত আনুমানিক ১৫০০ ঘনফুট পাথর জুমপাড় এলাকা থেকে উদ্ধার করে জাফলং জিরো পয়েন্টে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সেইসাথে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে কমপক্ষে ৫০ টির নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে। টাস্কফোর্স অভিযানে সহায়তা করে পুলিশ ও বিজিবি।
উল্লেখ্য- গত ৪ দিনের অভিযানে জাফলং থেকে লুট হওয়া প্রায় ১০ হাজার ঘনফুট লুট করা পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত পাথর নদীতে পুনস্থাপনের লক্ষে জাফলং জিরোপয়েন্ট এলাকায় নৌকা দিয়ে ফেলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ দিনে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, সদর, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় চার লাখ ঘনফুট সাদাপাথর জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে জব্দ হওয়া পাথর এখনো জেলা প্রশাসনের কাছে না পৌঁছায় সেগুলো যোগ হয়নি। তবে লুট পাথর উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান চলবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্র নিশ্চিত করেছে।





