সিলেটে হেসেখেলে জিতল বাংলাদেশ
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১:০৯:০৭ অপরাহ্ন
শঙ্কা ছিলো বৃষ্টির, সকালে বৃষ্টিও হয়েছে। তবে দুপুর থেকে সিলেটের আবহাওয়া রৌদ্রজ্জ্বল। বিকেলেও বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিলো, তবে হয়নি। বৃষ্টি না হলেও শঙ্কার ঘটনা ঘটলো গেটে। টিকিট না পেয়ে গেট ভাঙ্গলেন দর্শকরা। শেষ পর্যন্ত সব শঙ্কার মেঘ উড়িয়ে খেলা হলো। আর সন্ধ্যা রাতে ডাচদের উড়িয়ে দারুণ এক জয়ে শুভ সূচনা হলো। ৩৯ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ।
টসে জিতেও বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত ছিলো লিটনের। সবুজ অরণ্যে ঘেরা বৃষ্টির চোখ রাঙানির মাঝে বোলিংয়ে চেনা ছন্দে দেখা গেলো তাসকিন, সাইফ ও মোস্তাফিজদের। আর ব্যাটিংয়ে তো চমৎকার কাব্যগাথা রচনা করেই উৎসবের রঙ ছড়ালেন লিটন, সাইফরা।
লক্ষ্য ১৩৭। প্রথম ৬ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে রান দাাঁড়ায় ৫৭। প্রথম তিন বলে দুই চারের পর ছক্কা মারেন ইমন। তবে আরিয়ান দত্তের পরের ওভারে বোল্ড হয়ে সিলেটে উৎসবের আবহের মাছে কিছুটা ছন্দপতন ঘটান। কিন্তু কে জানতো উৎসবের রঙ ছড়ানো তো কেবল বাকী।
এরপরই শুরু হয় লিটন ঝড়। আরিয়ানের তৃতীয় ওভারে পরপর দুই বলে বাউন্ডারি মারেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। পরের ওভারে ড্যানিয়েল ডোরামের বলে রিভার্স সুইপ করে ছক্কা মারেন তিনি। লিটন কুমার দাস ফিফটি স্পর্শ করলেন মাত্র ২৬ বলে। একই সঙ্গে গড়লেন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ফিফটির রেকর্ড। যেখানে অবশ্য তার সঙ্গী হিসেবে আছেন সাকিব আল হাসান। শেষ পর্যন্ত লিটন ২৯ বলে ৫৪ রান করেই অপরাজিত ছিলেন।
লিটনের রেকর্ডের দুই বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা সাইফও সিলেটকে উৎসবে ভাসালেন। হাঁটু গেড়ে ফ্লিক করে প্রথম ছক্কাটি মারার পর পরের বলটিকে সাইট স্ক্রিনে আছড়ে ফেলেন সাইফ। ১৪তম ওভারে বিক্রমজিৎ সিংকে টানা দুই ছক্কা মেরে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটের জয় এনে দিয়েছেন সাইফ। সাইফ ১৯ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।
ওদিকে, একটি ছক্কা মারলেই এক পঞ্জিকাবর্ষে টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ছক্কা রেকর্ড হতো তানজিদ হাসানের। বাংলাদেশের ওপেনার এই ম্যাচে সেটি পারলেন না। ২৪ বলে ২৯ রান করা তানজিদ বাঁহাতি স্পিনার টিম প্রিঙ্গলের বলে লং অনে ক্যাচ হয়েছেন ম্যাক্স ও’ডাউডের।
আর ডাচ অফ স্পিনার আরিয়ান দত্তের দারুণ এক বলে বোল্ড হয়েছেন অপর ওপেনার পারভেজ হোসেন (৯ বলে ১৫ রান)। কুইকার বলটি জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন পারভেজ। তাত ২৬ রানে প্রথম উইকেট খোয়ায় বাংলাদেশ।
এর আগে টস জিতে বোলিং বেছে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। প্রথম সাফল্য এনে দেন পেসার তাসকিন আহমেদ। চতুর্থ ওভারে তাসকিনের বলে ডাচ ওপেনার ম্যাক্স ও’দো ক্যাচ তুলে দেন জাকের আলী অনিকের হাতে। দলীয় ২৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় নেদারল্যান্ডস। ম্যাক্সের ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ২৩ রান।
আরেক ওপেনার বিক্রমজিৎ সিং চার রান করে বিদায় নেন তাসকিনের বলেই। এবার ক্যাচ নেন পারভেজ হোসেন ইমন। দুই বছর পর দলে ফিরে জোড়া উইকেটের দেখা পান সাইফ হাসান। ডাচ অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসকে জাকেরের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান। স্কটের ব্যাট থেকে আসে ১২ রান। তেজা নিদামানুরু ২৬ রান করে সাইফের বলে তাওহিদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দেন।
ব্যাট হাতে রান পেতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে ডাচ ব্যাটারদের। উইকেট হারিয়েছে নিয়মিত বিরতিতে। ১৫ রান করে শারিজ আহমেদ পরিণত হন মুস্তাফিজুর রহমানের শিকারে। এরপর নোয়াহ ক্রোস ও কাইল ক্লেইনকে বিদায় করেন তাসকিন। নেদারল্যান্ডস থামে ১৩৬ রানে।
বাংলাদেশের পক্ষে ৪ ওভারে ২৮ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। সাইফ হাসান দুটি এবং মুস্তাফিজ পান একটি উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
নেদারল্যান্ডস : ২০ ওভারে ১৩৬/৮ (ম্যাক্স ২৩, বিক্রমজিৎ ৪, তেজা ২৬, এডওয়ার্ডস ১২, শারিজ ১৫, ক্রোস ১১, ক্লেইন ৯, প্রিঙ্গল ১৬, আরিয়ান ১৩*; মেহেদি ৪-০-২১-০, শরিফুল ৪-১-৩০-০, তাসকিন ৪-০-২৮-৪, মুস্তাফিজ ৪-০-২৯-১, রিশাদ ২-০-১৬-০, সাইফ ২-০-১৮-২)।
বাংলাদেশ : ১৩.৩ ওভারে ১৩৮/২ (লিটন ৫৪*, সাইফ ৩৬*, তানজিদ ২৯, পারভেজ ১৫; প্রিঙ্গল ১/১৬, দত্ত ১/৩০)। ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : ৩ ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১-এ জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তাসকিন আহমেদ।





