ফিলিপাইনে ঘূর্ণিঝড়ে ১১৪ জনের মৃত্যু, জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ৮:১৩:৪৪ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন, কারণ ঘূর্ণিঝড় ‘কালমেগি’ দেশটির মধ্যাঞ্চলে অন্তত ১১৪ জনের মৃত্যু ঘটিয়েছে এবং প্রায় ১৩০ জন নিখোঁজ রয়েছে। এটাই এ বছর ফিলিপাইনে আঘাত হানা সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। অধিকাংশ মৃত্যু হয়েছে হঠাৎ সৃষ্ট বন্যায় ডুবে যাওয়ার কারণে। নিখোঁজদের বড় অংশ সেবু প্রদেশের বাসিন্দা, যা ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার ঘূর্ণিঝড়টি দেশ পেরিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরের দিকে চলে যায়।
নাগরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, কালমেগির আঘাতে প্রায় ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজারকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট মার্কোস ‘জাতীয় বিপর্যয় অবস্থা’ ঘোষণা করেন। এতে সরকার দ্রুত ত্রাণ তহবিল ছাড় করতে পারবে এবং খাদ্য মজুদ বা অতিরিক্ত দামের মতো অনিয়ম ঠেকানো সহজ হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আরেকটি ঘূর্ণিঝড় শক্তি সঞ্চয় করছে, যা আগামী সপ্তাহের শুরুতে উত্তর ফিলিপাইনকে আঘাত করতে পারে।
সরকার জানিয়েছে, কালমেগির প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলীয় আগুসান দেল সুর প্রদেশে মঙ্গলবার বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। তারা ঘূর্ণিঝড়পীড়িত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ জানা যায়নি।
সেবু প্রদেশে নদী ও খালের পানি বেড়ে হঠাৎ বন্যা দেখা দেয়। বাড়িঘর ডুবে যায়, মানুষ ছাদে উঠে সাহায্যের জন্য চিৎকার করে—এমন চিত্র জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।নাগরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের হিসাবে, সেবু প্রদেশে অন্তত ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে, বেশিরভাগই পানিতে ডুবে। ৬৫ জন নিখোঁজ এবং ৬৯ জন আহত। পাশের প্রদেশ নেগ্রোস অক্সিডেন্টালে আরও ৬২ জন নিখোঁজ আছে।
সেবুর গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো বলেন, ‘আমরা যা পারি করেছি। কিন্তু এমন কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যায়—যেমন আকস্মিক বন্যা।’তিনি জানান, বছরের পর বছর অবৈধ খনি ও খননকাজের ফলে নদীগুলো ভরাট হয়ে গেছে। তাছাড়া নিম্নমানের বন্যা-নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পগুলো পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।সম্প্রতি সারা দেশে নিকৃষ্ট বা অনুপস্থিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে জনরোষ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে, ৩০ সেপ্টেম্বর সেবু প্রদেশে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৭৯ জন নিহত হয় এবং বহু মানুষ গৃহহীন হয়। তখনও এলাকা পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
ঘূর্ণিঝড় চলাকালে সমুদ্র উত্তাল থাকায় ফেরি ও মাছ ধরার নৌকা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এতে প্রায় ৩,৫০০ যাত্রী ও ট্রাকচালক ১০০টির মতো বন্দরে আটকে পড়েন। অন্তত ১৮৬টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
ফিলিপাইন প্রতিবছর প্রায় ২০টি ঘূর্ণিঝড় ও ঝড়ে আক্রান্ত হয়। এর সঙ্গে ঘন ঘন ভূমিকম্প ও সক্রিয় আগ্নেয়গিরির উপস্থিতি দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের একটি করে তুলেছে।





