জকিগঞ্জে বেড়িবাঁধ মেরামতে বিএসএফ’র বাধা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৪৯:৩১ অপরাহ্ন
জকিগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের জকিগঞ্জে বিগত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কুশিয়ারা নদীর বেড়িবাঁধ (ডাইক) জরুরী মেরামত কাজ করতে বাধা প্রদান করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বৃহস্পতিবার সকালে জকিগঞ্জ উপজেলার খলাছড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত কাপনা গ্রামে বেড়িবাঁধের মেরামত কাজ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার বাধার মুখে পড়েন।
ঠিকাদার নুরুল আমীন জানান, আমার লোকজন বেড়িবাঁধের জরুরী মেরামত কাজ করতে গিয়ে বারবার ভারতীয় বিএসএফের বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা প্রয়োজনীয় মালামাল ও যন্ত্রপাতি নিয়ে বাঁধ মেরামত কাজ করতে গেলে বিএসএফ এসে সরাসরি বাধা প্রদান করে। গত দুদিন পূর্বে এখানে আমার লোকজন কাজ করতে গেলে বিএসএফ মারমুখি হয়ে উঠে। পরে বিজিবি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পুনরায় কাজ করতে গেলে বৃহস্পতিবার ভারতীয় বিএসএফ এসে আবারও বাধা প্রদান করে। বিজিবি ও বিএসএফ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে কাজের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানিয়েছেন।
বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় বিজিবি লোহারমহল ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো দেশ বেড়া কিংবা স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সীমান্তের ১৫০ গজের ভিতরে হওয়ায় ভারতীয় বিএসএফ বাধা প্রদান করছে। বাংলাদেশের নদী ভাঙন ও সমস্যার বিষয়টি বিজিবি ভারতীয় বিএসএফকে অবহিত করলেও তাঁরা জানিয়েছে- ২০২০-২১ ও ২২ সালে বাংলাদেশের কাজ করার অনুমতি ছিল। এখন আর সেই সুযোগ নেই। এখন কাজ করতে হলে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে অনুমতি নিয়ে কাজ করতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জকিগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহফুজুর রহমান ভূইয়া বলেন, জকিগঞ্জ সীমান্তের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ (ডাইক) মেরামত কাজ করতে গিয়ে বারবার ভারতীয় বিএসএফের বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বাঁধ নির্মাণ নয়, বাঁধ মেরামত কাজেও ওরা বাধা দিচ্ছে। এতে ঠিকাদারসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা বিষয়টি একাধিকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
এদিকে, দ্রুত বাঁধ মেরামত না করলে বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে বর্ষা মৌসুমে লোকালয়ে পানি ঢুকে নিম্নাঞ্চল প্রতিবছরের মতো আগামীতেও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করেছে স্থানীয়রা। এ বেড়িবাঁধটি স্থানীয়রা চলাচলের রাস্তা হিসেবেও ব্যবহার করে থাকেন। তাই বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করার দাবী জানান এলাকাবাসী।





