বিদ্যুতের দাম আপাতত বাড়ছে না
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৫৯:০৩ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে চলমান মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে জনদুর্ভোগ তৈরি হবে। তাই এটি বিবেচনায় রেখে আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়ছে না । ভর্তুকি কমিয়ে আনতে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দলকে এমনটিই জানানো হয়েছে। তবে সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে ভর্তুকি কমানোর উদ্যোগ অব্যাহত রাখার বিষয়টিও জানানো হয়েছে।
ঢাকা সফররত আইএমএফের গবেষণা বিভাগের ডেভেলপমেন্ট ম্যাক্রো ইকোনমিকসের প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিওর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল বেশ কয়েক দিন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে রাজস্ব বাড়ানো, ভর্তুকি কমিয়ে আনা, ব্যাংক খাতের সংস্কার, পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার ক্ষেত্রে সরকারি অর্থায়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে মিশনটি।
সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আইমএমএফ মিশনকে জানিয়েছেন আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্তর্র্বতী সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় না। এর আগে প্রতিনিধি দলটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করে। বৈঠকে আইএমএফ মিশন জানতে চায়, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়াতে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না।
বিদ্যুৎ বিভাগ এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আইএমএফ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তারা নির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করবেন। তারা বলেছেন, চলমান অভ্যন্তরীণ সংস্কার কর্মসূচি সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকিও কমে আসবে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুতে ভর্তুকি বাবদ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ভর্তুকিতে ব্যয় করা হয় ৫৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয় ৩৩ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির অন্যতম শর্ত হলো বাজেটের অধীনে প্রদত্ত ভর্তুকি কমিয়ে ২০২৭ সাল নাগাদ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে।





