রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সরকার
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩০:৫৬ অপরাহ্ন
জামায়াতের আলোচনার প্রস্তাবে বিএনপি নিরব

জালালাবাদ রিপোর্ট : জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং গণভোট নিয়ে তৈরি সংকট নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সরকার। এ নিয়ে দলগুলো বেঁধে দেওয়া সময়ে সমঝোতায় পৌঁছতে না পারলে সরকার নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে। সেই প্রস্তুতিও চলছে।এদিকে চার দিন পার হলেও সমঝোতার জন্য দেশের অন্যতম বৃহৎ দল বিএনপির দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। জামায়াত কমিটি গঠন করে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও বিএনপি এক্ষেত্রে নিরব।
বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে ফোন করে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। কিন্তু একদিন পেরিয়ে গেলেও এ নিয়ে কোন কথা বলেনি বিএনপি।
ডা: তাহের গণভোট প্রশ্নে আলোচনার যে প্রস্তাব বিএনপিকে দিয়েছেন সে বিষয়ে শুক্রবার জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য খুব পরিষ্কার, বৃহস্পতিবার দলের স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত আপনাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি। ওটাই আমাদের বক্তব্য। অর্থাৎ বিএনপি মহাসচিব আলোচনার প্রস্তাবকে অনেকটা এড়িয়ে গেছেন। এতে রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা করছেন অনেকে।
ইতিমধ্যে পাঁচ দাবিতে জামায়াতসহ আটটি ইসলামী দলগু দাবি আদায়ে রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করছে। এ অবস্থায় সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সংকট নিরসনে সমঝোতার উদ্যোগ নিলেও আশার আলো দেখছেন না গণতন্ত্র মঞ্চসহ ৯ দলের নেতারা।
সূত্র মতে, প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে গত সোমবার অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের জরুরী বৈঠক থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতার আহবান জানানো হয়। বিশেষ করে গণভোট কখন হবে, গণভোটের বিষয়বস্তু কী হবে, জুলাই সনদে বর্ণিত ভিন্নমতগুলো প্রসঙ্গে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবগুলোর আলোকে ‘জরুরী ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ গ্রহণের জন্য বলা হয়।
এ জন্য এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হলেও সমঝোতার বিষয়ে কোনো উদ্যোগের কথা জানানো হয়নি। জামায়াতসহ আটটি ইসলামী দলের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার যমুনা অভিমুখে মিছিল এবং প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। তারা আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সরকার দাবি বাস্তবায়ন না করলে ১১ নভেম্বর সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও গণভোটের সময় নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চভুক্ত ছয়টি দল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ ও এবি পার্টি। গত বুধবার রাজধানীর পল্টনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কার্যালয়ে এই ৯টি দলের এক জরুরি সভায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আলোচনার কথা জানান দলগুলোর নেতারা। এ নিয়ে যোগাযোগ করা হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরবিরোধী অবস্থানে কোনো আশার আলো দেখছেন না তাঁরা। বরং ভবিষ্যতে সংকট আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় বসানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু অগ্রগতির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ রাজপথে যে কর্মসূচি দেখছি, ঘেরাও কর্মসূচি হলো, আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়িত না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকা অচল করে দেওয়ার ঘোষণা। এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে সাত দিন সময় দিয়ে সরকার চূড়ান্ত দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। দলগুলোর যে বিপরীতমুখী অবস্থান, সেখান থেকে সমঝোতায় পৌঁছা অসম্ভব। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যেতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, সরকার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেছে। ফেব্রুয়ারি কাছাকাছি চলে এসেছে, কিন্তু গণভোটের তারিখ ঘোষণা হচ্ছে না। নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে হবে।
সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, আইন মন্ত্রণালয় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ প্রণয়নে কাজ শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহে এই কাজ সম্পন্ন হতে পারে। বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে ‘আন-অফিশিয়ালি’ কিছু সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যা আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
পরশু বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে প্রশ্ন করা হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো সাড়া না দিলে সরকার কী করবে? জবাবে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক অনেক মিটিং হচ্ছে। তবে আমরা আশা করব, পলিটিক্যাল পার্টিগুলো আলাপ-আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্তে আসবে।





