ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ ২৯ দফা দাবিতে এমসি কলেজে ছাত্রশিবিরের স্মারকলিপি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৪৮:৩২ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রদানসহ ২৯ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এমসি কলেজ শাখা। রোববার (৯ নভেম্বর) সকালে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর গোলাম আহমদ খানের কাছে এই স্মারকলিপি প্রদান করেন কলেজ শাখার নেতৃবৃন্দ।
এমসি কলেজ শিবিরের সভাপতি ইসমাইল খান ও সেক্রেটারি অলিদ হাসানের নেতৃত্বে এসময়- শিবিরের সিলেট মহানগর শাখার দাওয়াহ ও মানবসেবা সম্পাদক হিফজুর রহমান মারুফ, ইন্টারমিডিয়েট সেকশনের সভাপতি রুম্মান আহমদ, বিজ্ঞান অনুষদের সভাপতি আবু ছুফিয়ান, কলা অনুষদের সভাপতি মহসিন আল আবিদ, কলেজ ছাত্রাবাস সভাপতি রুহুল ইসলাম, ডিগ্রি শাখা সভাপতি ইকবাল আহমদ সহ বিভিন্ন অনুষদের সেক্রেটারি সহ সকল বিভাগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এবিষয়ে এমসি কলেজ শিবিরের সভাপতি ইসমাইল খান বলেন, এমসি কলেজের শিক্ষাঙ্গনকে আরও সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে ছাত্রশিবির এমসি কলেজ শাখার পক্ষ থেকে কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর আজ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এটি শুধু কিছু দাবি নয়- এটি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার, সুবিচার ও স্বপ্নের শিক্ষাপরিবেশ প্রতিষ্ঠার এক শান্তিপূর্ণ আহবান।
এমসি কলেজ শিবিরের ২৯ দফা দাবী হলো- দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রদান ও তার রূপরেখা ঘোষণা; পরিবহন সংকট নিরসনে অতিরিক্ত ৩টি নতুন বাস ক্রয়; পুরাতন মসজিদ ভেঙে নতুন দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা; শিক্ষক সংকট দূরীকরণে প্রতি বিভাগের শূন্য পদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ- বিশেষ করে পরিসংখ্যান ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগে; কলেজ ছাত্রাবাস পোড়ানো ঘটনার পূনঃতত্ত্ব, গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ও শিক্ষার্থী খাদিজাকে রামদা দিয়ে জখমকারী দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ; আবাসন সংকট দূরীকরণে ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসে নতুন ভবন নির্মাণ করে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করা; ইসলাম শিক্ষা বিভাগে স্নাতক শাখা ও ব্যবসা বিভাগীয় স্নাতক বিষয়সমূহ চালু করা; ক্যাম্পাসে এবং ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেলের চারপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ক্যামেরা ও উঁচু সীমানাপ্রাচীর স্থাপন করা, টিলাগড় পয়েন্টে সংলগ্ন ও অন্যান্য কলেজের দখলকৃত জমি পুনরুদ্ধার করে পূর্ণ ১৪৪ একর জমি সরকারিভাবে ফেরত আনা; কলেজের নিজস্ব জমিতে সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ। ছাত্রীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য ছাত্রী হোস্টেল ১ ও ২ এর পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ এবং অটোস্ট্যান্ড সরাতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন; ছাত্রাবাসে একটি নান্দনিক গেইট নির্মাণ করা; প্রতিটি বিভাগে উন্নত শৌচাগার সুবিধা নিশ্চিত করা; কলেজ ও ছাত্রাবাসের ক্যান্টিনসমূহ পুনরায় চালু করা; অধ্যয়নরত শতভাগ শিক্ষার্থীদের কলেজ আইডি কার্ড নিশ্চিত করা; কলেজ ও ছাত্রাবাসে বিশুদ্ধ ও পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা; বেসরকারি কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণে উদ্যোগ গ্রহণ; গরীব ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রকল্যাণ তহবিল আরো শক্তিশালী করণ; কম্পিউটার ল্যাবে পর্যাপ্ত কম্পিউটার সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ; জুলাই শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি স্মৃতিস্তম্ভ ও “জুলাই কর্নার পাঠাগার” নির্মাণ করা; কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামটি সংস্কার করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ; ভর্তি ফি, নিবন্ধন ফি ও হোস্টেল ফি যৌক্তিকভাবে হ্রাস করা; বিজ্ঞান অনুষদের ল্যাবরেটরিগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহ করা; ক্যাম্পাস ও এর আশেপাশের এলাকা থেকে মাদকাসক্ত ব্যক্তি ও অসামাজিক কার্যকলাপের দমন করা; ছাত্রাবাসে একটি উন্মুক্ত পাঠাগার, ক্যান্টিন এবং শারীরিক ব্যায়ামের জন্য একটি জিমনেশিয়াম স্থাপন; কলেজ ও ছাত্রাবাসে একটি স্থায়ী মেডিকেল ডিসপেনসারি স্থাপন এবং সেখানে দক্ষ চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া; কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে দর্শকমঞ্চ ও বসার জন্য পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থা গ্রহণ; কলেজ ক্যাম্পাসে মেয়েদের জন্য প্রতিটি বিভাগে আলাদা নামাজের কক্ষ ও কমনরুমের ব্যবস্থা করা; ছাত্র হোস্টেলের আবাসিক এলাকার ভিতরে বহিরাগত, অছাত্রদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে শতভাগ উদ্যোগ নিতে হবে; ক্যাম্পাস সার্বক্ষণিক পরিষ্কার রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োগ দিতে হবে।





