জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রধান দুই দলের ধোঁয়াশা কাটছেনা
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ নভেম্বর ২০২৫, ১২:১০:১৬ অপরাহ্ন

জালালাবাদ রিপোর্ট : বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ৭ দিনের সময় দিয়েছিল। সোমবার (১০ নভেম্বর) সেই সময়সীমা শেষ হলেও দলগুলো এখনও সমঝোতায় আসতে পারেনি। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিএনপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা শুধু সরকার বা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি। অন্যদিকে, জামায়াতও বলেছে, সরকার যদি বিশেষ কোনো দলকে সুবিধা দিতে এই প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, তাতে তার দায় সরকারের।
জুলাই সনদ ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত হয়েছিল প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও বিভিন্ন দলের নেতাদের দ্বারা। সনদে থাকা সংবিধান-সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলো গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে, এবং সফল হলে আগামী সংসদ সংবিধান সংস্কার করবে। তবে গণভোট কখন হবে—নির্বাচনের সাথে একসাথে, নাকি আগে—এ বিষয়ে সরকারের উপর সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে।
মুখ্য মতবিরোধ : জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মূখ্য মতবিরোধের মধ্যে- বিএনপি চাইছে গণভোট অনুষ্ঠিত হোক সংসদ নির্বাচনের দিনেই এবং নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। অপরদিকে জামায়াত চাইছে গণভোট নির্বাচন আগেই আয়োজন করা হোক। সেটা নভেম্বর কিংবা আরো পরে। তবে অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগে।
এদিকে জুলাই সনদ নিয়ে দলগুলো একমত না হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে তিনটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে- দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার জন্য সপ্তাহব্যাপী সময় দেওয়া। পর্দার অন্তরালে দুই প্রধান দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা এবং সমাধান ব্যর্থ হলে সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রস্তুতি।
বিরোধের মূল কারণ: জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধের মধ্যে বিএনপির অভিযোগ ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট অন্তর্ভুক্ত হয়নি। গণভোটের তারিখ নির্ধারণে সরকার ও কমিশনের পক্ষপাতী আচরণের অভিযোগ। দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকায় রাজনৈতিক চাপ তৈরি। দলীয় সূত্র বলছে, পর্দার অন্তরালে সমঝোতার চেষ্টা চলছে এবং দুই দলের সম্মতি পেলেই গণভোট ও নির্বাচনের সমন্বয় চূড়ান্ত হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের আচরণ নির্বাচন প্রলম্বিত বা ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অংশ হতে পারে। কিন্তু এখন দায়িত্ব সরকার ও কমিশনের ওপর—যে বিষয়গুলো দলগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা এবং গণভোটের আয়োজন করা।





