এয়ারলাইন্সের টিকিটের গায়ে মূল্য উল্লেখ না করলে আইনি ব্যবস্থা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৩২:১৯ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : এখন থেকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে এয়ারলাইন্সের টিকিটের গায়ে মূল্য লিখতে হবে। যেসব এজেন্সি টিকিটের মূল্য উল্লেখ করবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে, এমন বিধান রেখে বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই দুই অধ্যাদেশের অনুমোদন দেওয়া হয়।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এখন থেকে সব ট্রাভেল এজেন্সিকে এয়ারলাইনসের টিকিটের গায়ে মূল্য উল্লেখ করতে হবে। যেসব এজেন্সি টিকিটের মূল্য উল্লেখ করবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপদেষ্টা বলেন, গত ১৬ বছর ধরে এ খাতে দুঃশাসন, দুর্বৃত্তায়নের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। আইনি দুর্বলতার কারণে অভিবাসী শ্রমিকরা এই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বৃত্তায়নের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ৩০ বা ৪০ হাজার টাকার টিকিট ১ লাখ ৯০ হাজার বা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। টিকিটের প্রকৃত মূল্য জানা যায় না। তিনি আরও বলেন, আইন সংশোধনের মূল লক্ষ্য প্রতিযোগিতামূলক দরে টিকিটের বেচা-কেনা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি যাত্রীদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করা।
উপদেষ্টা বলেন, নতুন আইনের ফলে একটি এজেন্সির টিকিট অন্য এজেন্সি বিক্রি করতে পারবে না। এতদিন এইভাবে আড়তদারি ব্যবসার স্টাইলে বিমানের টিকিটের ব্যবসায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর বাংলাদেশ থেকে ৩২ লাখ মানুষ বিদেশে গিয়েছে। তাদের কাছ থেকে টিকিটের মূল্য বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে। এই সাগর পরিমাণ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করে সেগুলো আবার বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, বিএমইটির সার্টিফাইড শ্রমিদের, যারা বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কার্ডপ্রাপ্ত, নামে কোনো গ্রুপ টিকিট বুকিং দেওয়া যাবে না। তবে পরিবার বা কোনো সংঘের সদস্যদের বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের নামে গ্রুপ টিকিট বুকিং দেওয়া যাবে।
বশিরউদ্দিন বলেন, এয়ারলাইন্সের সব কার্যক্রম অটোমেটিক পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। ফলে কে, কোথা থেকে টিকিট বিক্রি করছে সেগুলোও তাদের সফটওয়্যার থাকবে। কোনো এয়ারলাইন্স নিয়মবহির্ভূতভাবে টিকিট বেচা-কেনা করলে তাকে তার দায় নিতে হবে। তিনি বলেন, এজন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে।





