আন্দোলনের মুখে শাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ৮:২২:৩১ অপরাহ্ন
তবুও ধুম্রজাল কাটছে না

স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত হয়ে এ ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী ৯ অথবা ১০ ডিসেম্বর শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে এই নির্বাচন করব। এ আশ্বাস পেয়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। প্রশাসনিক ভবনের তালাও খুলে দেন তাঁরা।
এর আগে শাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা ও ভোটার হতে বকেয়া পরিশোধের শর্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে পৌনে দুই ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত ১০টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে প্রায় রাত সোয়া একটা পর্যন্ত অবস্থান করেন তাঁরা।
এর মধ্যে রাত ১১টার দিকে অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন ও প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান আশ্বাস দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত পৌনে একটায় উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী ও সহ-উপচার্য সাজেদুল করিম আসেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ৯ অথবা ১০ ডিসেম্বর শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ঘোষণা দেন। উপাচার্যের আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী ৯ অথবা ১০ ডিসেম্বর নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও তা নিয়ে ধুম্রজাল কাটছে না। গতকাল শুক্রবারও আনুষ্ঠানিকভাবে তারিখ ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। লিখিত সার্কলার জারি না করায় এখনও ধোঁয়াশা কাটছে না।
অপরদিকে গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সঙ্গেও রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন উপাচার্য। রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে ৯ নাকি ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এই ঘোষণা হয়নি। কারণ শাবিপ্রবি ছাত্রদল এই মুহুর্তে নির্বাচন চায় না বলে একাধিকবার জানিয়েছে সংগঠনটি। তারা ইতোমধ্যে শাকসু নির্বাচনের জন্য যৌক্তিক সময় দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে। ফলে নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তবে ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্র মজলিস ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ সমমনা ছাত্র সংগঠনগুলো দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল। ছাত্রদল বিরোধিতা করায় দোটানায় পড়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।





