আইএমএফের পূর্বাভাস: চলতি অর্থবছর ঊর্ধ্বমুখী থাকবে মূল্যস্ফীতি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক : চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি আরো কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছতে পারে, যা গত অক্টোবরের ৮ দশমিক ২ শতাংশের চেয়েও বেশি। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা ধীরে ধীরে কমে ৫ দশমিক ৫ শতাংশে নামতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সম্প্রতি ঢাকায় সফর শেষে এক বিবৃতিতে আইএমএফ মিশনপ্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও এ তথ্য জানান।
বাংলাদেশ সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে উল্লেখ করে ক্রিস পাপাজর্জিও বলেন, তবে দুর্বল কর রাজস্ব, আর্থিক খাতের দুর্বলতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অর্থনীতি এখনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে, যা আগের অর্থবছরেও ৪ দশমিক ২ শতাংশ ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের সময় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, কঠোর নীতিমালা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধির কারণেই জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ ধীরগতি। চলতি বছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি দুই অংকে পৌঁছলেও এখন কিছুটা কমে এসেছে। এর পরও তা উচ্চমাত্রায় অবস্থান করছে। আইএমএফের মতে, মূল্যস্ফীতি কার্যকরভাবে কমাতে মুদ্রানীতি আরো কিছু সময় কঠোর রাখা প্রয়োজন। বিবৃতিতে বলা হয়, মূল্যস্ফীতি ৫-৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় না আসা পর্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখতে হবে। এছাড়া নতুন বিনিময় হার ব্যবস্থার পূর্ণ বাস্তবায়ন ও বাড়তি শিথিলতা নিশ্চিত করতে হবে। কর প্রশাসন জোরদার, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ ও সামাজিক সুরক্ষা জালের পরিধি বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও রাজস্ব খাতের সুশাসন উন্নত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে বলেও মন্তব্য করেছে আইএমএফ। সংস্থাটি বলছে, দুর্বল ব্যাংকগুলোর সমস্যা সমাধানে সরকারের একটি বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় কৌশল প্রয়োজন। এর মধ্যে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক মূলধন ঘাটতি নিরূপণ, সরকারি সহায়তার পরিধি নির্ধারণ ও আইনগতভাবে শক্তিশালী পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্তসহ সব বড় ব্যাংকের সম্পদের মান যাচাই (একিউআর) সম্প্রসারণের ওপরও জোর দিয়েছে সংস্থাটি।





