রাজশাহীতে বিচারকপুত্র খুন : সিলেটে এসেও বিচারকের স্ত্রী-মেয়েকে উত্যক্ত করতেন খুনী লিমন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৪৯:২০ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগর ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে (১৫) কুপিয়ে হত্যা ও স্ত্রীকে আহত করার ঘটনায় লিমন মিয়া (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঐ লিমন চার বছর চাকরির পর সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানার ওসি শাহ মুবাশ্বির।
তিনি জানান, ৬ নভেম্বর বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসী (৪৪) জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান। পরে সিলেট মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে জালালাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু, বিচারকের স্ত্রী মামলা করতে রাজি না হওয়ায় তখন এ ঘটনায় জিডি করা হয়। জিডিমূলে ওই ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
ওসি জানান, বিচারকের মেয়ে শাহজালাল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত। মূলত মেয়েকে দেখতে বিচারকের স্ত্রী সিলেট এসেছিলেন। তখন লিমন তার পিছু নিয়ে সিলেট ছুটে আসে এবং তাদেরকে ডিস্টার্ব করে। এক পর্যায়ে তারা পুলিশের সহযোগিতা নিতে বাধ্য হন। তবে কী কারণে সে বিচারকের স্ত্রীর সাথে তার ঝামেলা ছিল তা তার জানা নেই।
প্রসঙ্গত, পরিবারের লোকজনকে ১০ দিন আগে হত্যার হুমকি দিয়েছিল লিমন মিয়া নামের ওই ব্যক্তি। এ ঘটনায় গত ৬ নভেম্বর সিলেটের জালালাবাদ থানায় লিমন মিয়ার বিরুদ্ধে জিডি করেছিলেন বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসী। জিডি করার ৭ দিনের মাথায় বিচারকের ভাড়া বাসায় ঢুকে ছেলেকে হত্যা ও লুসিকে জখম করে।
রাজশাহী পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী হিসেবে আটক যুবক বিচারকের বাসায় ঢোকার সময় ভবনের দারোয়ানের কাছে থাকা খাতায় নিজের নাম লিখেছেন লিমন। ‘বিচারকের ভাই’ পরিচয় দিয়ে তিনি পাঁচতলার ফ্ল্যাটে যান।
ভবনটির দারোয়ান মেসের আলী বলেন, ওই যুবককে তিনি আগে কখনো দেখেননি। বিচারককে ভাই পরিচয় দেওয়ায় তিনি ঢুকতে দেন। তবে তার আগে নাম ও মুঠোফোন নম্বর লিখিয়ে নেন। বেলা আড়াইটার দিকে ওই যুবক ফ্ল্যাটে যান। এর প্রায় ৩০ মিনিট পর ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী তাঁকে এসে জানান, ফ্ল্যাটে বিচারকের ছেলেকে ও স্ত্রীকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভবনের অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাও চলে আসেন। তাঁরা সবাই ফ্ল্যাটে ঢুকে তিনজনকেই আহত পান। এরপর তিনজনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হামলাকারী ব্যক্তির পকেটে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে তিনি চালক। তাঁর সঙ্গে পূর্ববিরোধ থাকতে পারে। কেন এই ঘটনা ঘটেছে, তা তাঁরা এখনো বিস্তারিত জানেন না।
এদিকে ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে (১৬) খুনের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহমান। শুক্রবার দুপুরে তিনি মামলার এজাহারে সই দিয়ে ছেলের লাশ নিয়ে জামালপুরে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পরে রাজপাড়া থানা পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গাজিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিচারক নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার একমাত্র আসামি লিমন মিয়া (৩৪)। তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশের হেফাজতে হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসা শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
আসামি লিমন মিয়ার বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া ভবানীগঞ্জ গ্রামে। তার বাবার নাম এস এম সোলায়মান শেখ। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য ও ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।





