৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ শাবি ভিসি-প্রোভিসি : শাকসু নির্বাচনের তারিখ পুনর্বিবেচনার আশ্বাস
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ৯:০৫:৪৮ অপরাহ্ন

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের তারিখ পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি শুনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার রাত সোয়া ৯টায় এক সংবাদ সম্মেলনে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের জন্য ১৭ ডিসেম্বর তারিখ ঘোষণা করেন উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। এর পরপরই ঘোষিত তারিখ প্রত্যাখ্যান করে রাত সাড়ে ৯টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের ফটকে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কর্মকর্তারা। দিবাগত রাত একটা থেকে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত শনিবার দুপুরের আগে একটি সিদ্ধান্ত জানাবেন—এই শর্তে প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত হন তাঁরা। পরে শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁদের এই আন্দোলন শনিবার দুপুর পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
ওই সময় উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শাকসু নির্বাচন হবে, তোমরা প্রস্তুতি শুরু করো। আমার এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তোমাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দিনগত রাত পৌনে ৪টায় প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে উপস্থিত হয়ে প্রো-ভিসি শিক্ষার্থীদের জানান, ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচন হলে অনেক শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারবে না—এই যুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, যুক্তিযুক্ত দাবিগুলো কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত জানানো হবে।
১৭ ডিসেম্বর নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। রাত পৌনে ৪টায় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন শিশির জানান, ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। চার দিনের ছুটি থাকার কারণে ভোটার সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কমিশন যেহেতু ৮ ডিসেম্বরের পর যেকোনো দিন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, প্রশাসন ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে সুবিধাজনক দিন নির্ধারণ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শীতকালীন ছুটি পেছানোর যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে সেটি শিক্ষার্থীরা মানছেন না। আগের ঘোষণা অনুযায়ী ছুটি বহাল রাখার দাবি তাদের। শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান তুলে ধরার পর শনিবার কমিশনের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।





