নগরে গভীর রাতে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ও বাসস্ট্যান্ডে বাসে আগুন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একাধিকা ঝটিকা ও মশাল মিছিলের পর এবার সরকারী হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে এবং বাসস্ট্যান্ডে থাকা বাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে এই ধরণের নাশকতা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে সিলেট নগরীতে অন্তত ১০ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে আটক করলেও অধিকাংশরাই রয়ে গেছে ধরাছোয়ার বাইরে। এতে জনমনে বাড়ছে শঙ্কা।
যদিও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে এক রাতে দুটি যানবাহনে আগুনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।জানা গেছে, শনিবার দিবাগত গভীর রাতে সিলেট নগরীর একটি সরকারি হাসপাতালে থাকা অ্যাম্বুলেন্স ও বাসস্ট্যান্ডে থাকা বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে দুটি গাড়িই পুড়ে গেছে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাতে নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের পার্কিংয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্স ও কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডে থাকা বাসে আগুন দেওয়া হয়।
রোববার সকালে এর সত্যতা নিশ্চিত করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।তিনি বলেন, এই ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের চালক আব্দুল কাদির লিটন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৫ জনকে আসামী করে এসএমপির কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
শামসুদ্দিন হাসপাতালের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান বলেন, হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে দুটি মোটরসাইকেলে করে পাঁচ তরুণ হাসপাতালের পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি পুরোটাই পুড়ে গেছে।
সিলেট ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে আগুনের খবর পেয়ে রাত ৩টা ১৫ মিনিটের সময় ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। শামসুদ্দিন হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের আগুন নিয়ন্ত্রণ করে গাড়িটি স্টেশনে আসার পর রাত ৩টা ৫০ মিনিটের সময় কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডে একটি বাসে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার লিডার মোহাম্মদ ফজল মিয়া বলেন, শামসুদ্দিন হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি সচল ছিল। এটি একেবারে পুড়ে গেছে। এ ছাড়া কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের বাসটি পরিত্যক্ত ছিল। আমরা বাসের গেটের তালা খুলে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি।
জানা গেছে, পুলিশের সতর্ক অবস্থানেও সিলেটে থামছেনা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল। গত এক সপ্তাহে নগরীর মির্জাজাঙ্গালে ঝটিকা ও লালাবাজারে মশাল মিছিলের পর গত (১২ নভেম্বর) বুধবার সকালে নগরীতে আরো একটি মিছিল করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই মিছিলের ভিডিও নিজ ফেইসবুকে শেয়ারও করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান।
এদিকে দক্ষিণ সুরমায় মশাল মিছিলের ঘটনায় এসএমপির মোগলাবাজার থানার পারারইচক এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের ৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে একই দিন মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালিয়ে মোগলাবাজার থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ৩ ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একাধিক মিছিলের পর অ্যাম্বুলেন্সে ও বাসে আগুনের পর নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। রোববার থেকে অভিযান আরো জোরদার করা হয়েছে বলে এসএমপি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, এক রাতে অ্যাম্বুলেন্স ও বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে হতাহতের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সিসি ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্তের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, সোমবারের রায়কে কেন্দ্র করে নাশকতার অংশ হিসেবেই অ্যাম্বুলেন্স ও বাসে আগুন দেয়া হতে পারে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পুলিশের একাধিক টীম ও গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে কাজ করছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে।





