হাসিনার রায় ঘিরে সিলেটে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে পুলিশ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ৯:০০:২৩ অপরাহ্ন

সংগৃহীত
স্টাফ রিপোর্টার : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মানবতাবিরোধী মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ঢাকা লকডাউনের পর এবার শাটডাউন কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। এদিকে ট্রাইব্যুনালের রায় ও লীগের শাটডাউন ঘিরে সিলেটে নাশকতার শঙ্কা বাড়ছে। এক রাতে অ্যাম্বুলেন্স ও বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় শঙ্কা আরো ঘনীভুত হয়েছে।
যদিও গত ১৩ নভেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ঘোষিত ঢাকা লকডাউনে সিলেটে তেমন কোনো অঘটন ঘটেনি। তবুও ১৬ ও ১৭ নভেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে নতুন করে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সর্বোপরি, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেট মহানগর পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনালের রায় ঘিরে সম্ভাব্য সকল পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মানবতাবিরোধী মামলার রায় ঘোষণা উপলক্ষে ১৩ নভেম্বর ঢাকা লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ। তখন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলেও সিলেটে তেমন অঘটন ঘটেনি।
রায়ের তারিখ ১৭ নভেম্বর নির্ধারণের পরই আওয়ামী লীগের নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৬ ও ১৭ নভেম্বর বিক্ষোভ ও শাটডাউন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এ নিয়ে জনমনে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বিএনপি-জামায়াকের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সিলেটে শাটডাউন পালনের মতো লোকবলের অভাবেই এ কর্মসূচি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগ যদি কোনোধরনের নাশকতার চেষ্টা করে। জনগণই তা প্রতিহত করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও আছেই।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, শাটডাউন কর্মসূচি ঘিরে আমাদের দল থেকে কোনো বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমাদের কোনো কর্মসূচিও নেই। নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দল যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, জনগণই তাদের প্রতিহত করবে। বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে।
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, বিএনপি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য সবসময় রাজপথে ছিল, আছে এবং থাকবে। শাটডাউন কর্মসূচি নিষিদ্ধ একটি দলের ঘোষণা—তাদের কোনো তৎপরতা থাকলে তা দেখবে প্রশাসন। আমাদের আলাদা কোনো কর্মসূচি নেই, তবে আমরা জনগণের সাথে আছি।এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ পলাতক আওয়ামী লীগ কর্তৃক ঢাকা লকডাউন ঘোষণা করলে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবির সারাদেশের ন্যায় সিলেটের সকল গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মিছিল সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে। সোমবারের রায়কে কেন্দ্র করে কোন ধরণের নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে জামায়াত জনগণকে সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করবে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীকে আরো সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে। এরপরও পতিত আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা যদি সিলেটে কোন নাশকতার চেষ্টা করে তাহলে সচেতন সিলেটবাসী তাদেরকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করবে। যদিও আমরা মনে করে সিলেটে পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী অপশক্তিদের সেই সামর্থ নেই।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায় ঘিরে সিলেটে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে পুলিশ। নাশকতার চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হস্থে দমন করা হবে।





