জকিগঞ্জে শীতের প্রকোপ, বাড়ছে শীতকালীন রোগব্যাধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ৬:০৪:৩৬ অপরাহ্ন

এখলাছুর রহমান, জকিগঞ্জ: শীত ঋতুর এখনো মাসখানেক বাকি। কিন্তু হেমন্তের মাঝামাঝি সময়েই জকিগঞ্জ উপজেলায় দেখা দিয়েছে শীতের ঝাঁজ। সারাদিন ঝলমলে রোদ, সন্ধ্যার সামান্য আগে থেকেই কুয়াশার তাণ্ডব! সাথে শীতল আবহাওয়া। সারারাত ঘরের চালে কুয়াশা পড়ার টুংটাং শব্দ।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী জকিগঞ্জ উপজেলায় গত তিন দিনে তাপমাত্রার ধারাবাহিক পতন ঘটায় শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলায় গত ৩ দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে রাতের ও ভোরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দেখা গেছে ১৬ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রাতের শীতল বাতাস এবং ভোরের কুয়াশা মিলিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শীতের এমন তীব্রতা জনজীবনে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে ভোর ও রাতে মানুষের চলাফেরা কমে গেছে এবং খোলা জায়গায় কাজ করা শ্রমজীবী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। রিকশাচালক, দিনমজুর, ইটভাটা ও নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, ভোরের ঠান্ডা বাতাসে কাজ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। অনেকে কাজের সময় কমাতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে আয়ের ওপরও পড়ছে সরাসরি প্রভাব। খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষদের দুর্ভোগ আরও বেশি-অনেকেই পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে পুরো রাত কাঁপতে বাধ্য হচ্ছেন।
শীতের প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। সকালবেলার কুয়াশা ও কম তাপমাত্রার কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না, আবার যারা যাচ্ছে তাদের পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাচ্ছে। শিক্ষকদের মতে, ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে উপস্থিতি কমে গেছে এবং ছোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। অনেক অভিভাবকই সন্তানদের সকালবেলার শীত মোকাবিলা কঠিন হওয়ায় স্কুলে পাঠাতে দ্বিধায় ভুগছেন।
এদিকে, শীতের সঙ্গে বাড়ছে নানান রোগবালাই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, জ্বর, হাঁপানি, হাইপোথারমিয়া এবং ঠান্ডাজনিত অসুস্থতা নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভর্তি হতে দেখা যাচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আব্দুল আহাদ বলেন, হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে শ্বাসনালি ও ফুসফুসজনিত রোগ বাড়ছে এবং দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তিনি সবাইকে ভোর ও রাতে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন এবং পর্যাপ্ত গরম কাপড় ব্যবহার, গরম পানি পান ও বাড়তি সতর্কতা গ্রহণের আহ্বান জানান।





