সিলেটে উচ্ছাস-মিষ্টি বিতরণ, কড়া নিরাপত্তা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ৮:১৬:৫৯ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী মামলার রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সিলেটের রাজপথে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ হয়েছে। সোমবার দুপুরে রায় ঘোষণার পরপরই নগরীর চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গন থেকে ছাত্র-জনতার পৃথক পৃথক আনন্দ মিছিল বের করা হয়। এসময় শহীদ মিনারে উপস্থিতি ছাত্র-জনতার মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
এদিকে শেখ হাসিনার মামলার রায়ে ঘিরে সিলেটে যে কোনধরণের নাশকতা ও অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিলো। সোমবার সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত সিলেটের কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, সোমবার (১৭ নভেম্বর) ভোর থেকে সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া পাড়া-মহল্লাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশের বিভিন্ন টীম ছদ্মবেশে নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পয়েন্টে অবস্থান নেয়। একইসাথে সন্দেহজনক ব্যক্তিসহ যানবাহনে চলে তল্লাশি।
এদিকে, শনিবার দিবাগত গভীর রাতে নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের পার্কিংয়ে রাখা সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স চালক আব্দুল কাদির লিটন রোববার (১৬ নভেম্বর) বিস্ফোরক আইনে অজ্ঞাতনামা ৫ জনকে আসামী করে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।এছাড়া রোববার দিবাগত রাতে দেড়টার দিকে নগরীর পাঠানটুলা নবাবী জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকার একটি গাড়ির গ্যারেজে রহস্যজনক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে অন্তত ১২টি গাড়ী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
এদিকে সোমবার সিলেট নগরীতে অফিসগামী ও সাধারণ মানুষের চলাচল ছিল স্বাভাবিক। সড়কজুড়ে ছিল যানবাহনের ভিড়। চালু ছিল সবধরণের গণপরিবহন ও ট্রেন।সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম জানান, সিলেটের অভ্যন্তরীণ রুটে অন্যান্য দিনের মতো যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। একই সাথে যাত্রীদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষ্যণীয়। সিলেট থেকে দূর পাল্লার বাস ছেড়ে যথাসময়ে আসা যাওয়া করেছে।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম জানান, সিলেটে ট্রেন চলাচল ছিলো স্বাভাবিক। যাত্রীদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষ্যণীয়। এছাড়া অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্টেশন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ছিলো।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সিলেটে যে কোন ধরনের নাশকতার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল। মাঠে সেনাবাহিনীর টহলের পাশাপাশি, পুলিশ-র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ সর্বদা তৎপর ছিল। যার ফলে সিলেটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।





