বড়লেখায় সচ্ছলদের নামে মুজিববর্ষের ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় অধিকাংশ ফাঁকা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ৬:২৭:৫৩ অপরাহ্ন

আব্দুর রব, বড়লেখা : বড়লেখায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে মুজিববর্ষের ঘর বরাদ্দের নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয় দলীয় বিবেচনায় সচ্ছলদের মধ্যে। হতদরিদ্র অনেকেই সরকারি ঘর পেতে দিতে হয়েছে টাকা। আবার অনেকের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ঘর দেওয়ার নামে ৩০/৪০ হাজার টাকা নিয়েও দেননি তাদের সরকারি পাকাঘর।
অসচ্ছলদের বরাদ্দের ঘর সচ্ছলদের নামে বরাদ্দ দেওয়ায় এবং ড্রেনেজ সমস্যা, খাবার পানি সংকটসহ বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অধিকাংশ ঘর ৪/৫ বছর ধরে ফাঁকা পড়ে রয়েছে। কেউ কেউ বিক্রি করে দিয়েছেন, আবার কেউ ভাড়াও দিয়েছেন হস্তান্তর অযোগ্য এসব সরকারি ঘর। এমন চিত্র উপজেলার যেখানেই মুজিববর্ষ উপলক্ষে পাকা ঘর করে দেওয়া হয়েছে সেখানেই লক্ষ্য করা গেছে।
উপজেলা প্রশাসন চার পর্যায়ে বড়লেখা উপজেলায় সরকারি খাস ভূমিতে ২৬২ অসচ্ছল ও দুস্থ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকাঘর তৈরী করে দিয়েছে। এর আগে উপকারভোগিদের নামে ২ শতাংশ ভূমি রেজিষ্ট্রী করে দলিল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ২০২০ সালের শেষের দিকে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়।
জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের কাশেমনগর গ্রামের প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ১৪টি ঘর তৈরি করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রকল্প তালিকার ৪৬ নম্বর উপকারভোগি হলেন মৃত জমির আলীর স্ত্রী রয়ছুন বেগম। নিজস্ব পাকা বাড়ি থাকায় তিনি প্রথম থেকেই ঘরে উঠেননি। সরেজমিনে জানা গেছে, রয়ছুন বেগম ঘরটি মাসিক ৫০০ টাকায় ভাড়া দিয়েছেন আমান উদ্দিন নামক গৃহহীন ব্যক্তির কাছে। ৪৯ নম্বর উপকারভোগি হাসান আলী এলাকার সচ্ছল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তার নামে দেওয়া হয় সরকারি ঘর। ওই ঘরে বসবাস করতে দেখা গেছে সোহেল আহমদ ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম। নাজমা বেগম জানান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ঘর দেওয়ার কথা বলে দুই দাগে তাদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন। সবাই ঘর পেলেও তারা ঘর না পাওয়ায় চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনি ওই ঘরে (বর্তমানে বসবাসরত) বসবাস করতে দিয়েছেন। ৫০ নম্বর উপকারভোগী ফখর উদ্দিন বরাদ্দ পাওয়া ঘরটি সোয়েদ আহমদ নামে এক ব্যক্তির কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। ৫৩ নম্বর উপকারভোগি হাওয়ারুন নেছার নামে বরাদ্দের ঘরে বসবাস করছেন দুদু মিয়া নামে এক ব্যক্তি। বিপুল জমিজমা ও পাকা বাড়ির মালিক মনির হোসেন তালিকার ১০৪ নম্বর উপকারভোগী। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে সুসস্পর্ক থাকায় তার নামে ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন। বর্তমানে বিক্রির দরদাম চলছে। আওয়ামী লীগ নেতা সচ্ছল জাহের মিয়ার ঘরে (তালিকার ১০৫ নম্বর উপকারভোগী) বসবাস করছেন অনিতা বাউরি ও তার স্বামী শুভ বাউরি। অনিতা বাউরি অভিযোগ করেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ৪ বছর আগে তাদের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে এই ঘরটি দিয়েছেন। দলিল দিচ্ছেন দিবেন বলে আজও দেননি। সম্প্রতি জাহের মিয়া বলছে এই ঘরটি তার নামের, এটা ছাড়তে হবে। আর থাকতে হলে তাকে ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। হতদরিদ্র চা শ্রমিক অনিতা বাউরি পড়েছেন মহাবিপাকে।
একই গ্রামের আরেকটি প্রকল্পে ৪২টি ঘর নির্মাণ করে উপকারভোগিদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সাবেক ইউপি সদস্য গীতা রাজভরের নামে বরাদ্দ প্রথম ঘরটি ফাঁকা পড়ে রয়েছে। চার বছর আগে নির্মাণ করে দেওয়া হলেও একদিনও তিনি সেখানে বসবাস করেননি। ৪২ টি ঘরের উপকারভোগিদের মধ্যে মাত্র ১৩টি পরিবার বসবাস করছে। ৬ পরিবার কয়েক মাস বসবাস করলেও ঢলের পানিতে ঘরের ৩/৪ ফুট নিমজ্জিত ও বিশুদ্ধ পানিয় জলের সমস্যার কারণে তারা চলে গেছে। ২২ পরিবার প্রথম থেকেই ঘরে উঠেনি। ফলে ২৯টি ঘর প্রথম থেকে ফাঁকা পড়ে রয়েছে।
ইউএনও গালিব চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে সরেজমিনে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।





