দিরাইয়ে অবৈধ বালুতে ভরাট হচ্ছে মহাসড়ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ৬:৫৮:০৩ অপরাহ্ন

দিরাই প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে জলমহালে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব চালিয়েছে একটি সিন্ডিকেট। অবৈধভাবে তোলা বালু নির্মাণাধীন দিরাই-শাল্লা-জলসুখা মহাসড়কে বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রাজনৈতিক দলীয় নামধারী শক্তিশালী সিন্ডিকেট। জলমহালটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ইজারা নিলেও সুবিধা নিচ্ছেন স্থানীয় বিএনপি দলের কতিপয় সুবিধাবাদি লোক। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু লোককে ভাগে রেখে টানা দুই সপ্তাহ ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজ চলছে। এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রের সনজিব সরকার।
সরেজমিনে উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকার জুরী পাঞ্জুরী বিল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের এ দৃশ্য দেখা যায়। কাদামাটি মিশ্রিত এসব বালু পার্শ্ববর্তী দিরাই-শাল্লা-জলসুখা মহাসড়কের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে নবনির্মিত মহাসড়কটির নির্মাণকাজ ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে বলে আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
জলমহালটিতে বসানো ড্রেজার মেশিন মালিক মাদারীপুর জেলার আব্দুস শহিদ জানান, দিরাই উপজেলা বিএনপি নেতা তাড়ল গ্রামের জুয়েল চৌধুরীর মাধ্যমে এখানে মেশিন বসিয়েছেন। টানা ১৭ দিন ধরে বালু উত্তোলন করছেন। তবে অভিযুক্ত জুয়েল চৌধুরী বলছেন, আমি এসব জানিনা।
নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুল হেকিম মিয়া জানান, বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন আগে এলাকাবাসীর পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর করে ভিট বালু উত্তোলন করলে পার্শ্ববর্তী শত শত একর বোরো জমি ধসে পড়তে পারে। কৃষকদের বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম বোরো। এই জমি ধসে পড়লে পুরো এলাকার কৃষি ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কৃষিজমি ধ্বংস করে ভূগর্ভস্থল থেকে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়েই এই সিন্ডিকেটের লোকেরা দেদারছে অবৈধভাবে উত্তোলন করছে বালু।
নোয়াগাঁও জুরী পাঞ্জুরী মৎজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি ওয়াহিদ আলী জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা আমাদের জলমহাল থেকে বালু উত্তোলন করার জন্য ডিসির অনুমোদনকৃত একটি কাগজ দেখিয়ে দলীয় প্রভাব দেখায়। আমি বাধা দিতে চাইলে তারা বলে ডিসি নাকি বলছেন আমি যেন বাধা না দেই। তাই আমি বালু উত্তোলনে বাধা দিতে সাহস পাই নাই। বিএনপি নেতা জুয়েল মিয়া আমাদের সমিতিকে বালুর ফুট প্রতি দুই টাকা করে দিবেন বলে জানান।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন বলেন, ড্রেজার দিয়ে উত্তোলনকৃত বালু আমরা উনাদের কাছ থেকে ৮ টাকা ফুট দরে নিচ্ছি। গত কয়েক দিন আগে ডিসি পরিদর্শন করে গিয়েছেন। বালু উত্তোলন বৈধ নাকি অবৈধ তা জানি না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সনজিব সরকার জানান, বিল খনন করে মাছের অভয়ারণ্যে তৈরি করা যায় কিন্তু মাটি বিক্রি করা অবৈধ। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, ড্রেজার মেশিনসহ ব্যবহৃত পাইপ রাষ্ট্রের অনুকুলে বিনষ্ট করা হয়েছে। বিলের কাদা মাটি সড়কের কাজ ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলার আশংকা রয়েছে।





