নানা শঙ্কা, সংশয় ও আপত্তি
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩০:৩৮ অপরাহ্ন
ইসির সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ

জালালাবাদ রিপোর্ট : রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকালের সংলাপে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১৩টি দল অংশ নেয়। সংলাপের শুরুতে সূচনা বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চেয়েছেন। আর রাজনৈতিক দলগুলো ইসির কাছে নানা প্রশ্ন, শঙ্কা-সংশয় ও আপত্তি তুলে ধরেছে।
নির্বাচন কমিশনকে ভোটের সময় কঠোর হওয়া, কমিশনের ক্ষমতার দৃষ্টান্তমূলক প্রয়োগ, জামানত ও নির্বাচনি ব্যয়সীমা কমানো, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা এবং অপতথ্য ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে দলগুলো। নির্বাচন কমিশন-ইসির সঙ্গে সংলাপে নির্বাচনের মাঠে ‘অবৈধ অস্ত্রের’ ব্যবহার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে দলগুলো। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে সুপারিশ করেছে তারা।
সংলাপে সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অন্যদিকে, সংলাপে ইসির আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াত। এছাড়া তফসিলের পর একযোগে প্রশাসনে রদবদল ও ভোট কেন্দ্রে অন্তত ৫ জন সেনা সদস্য রাখার দাবি জানিয়েছে জামায়াত। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লটারির মাধ্যমে বদলি চায় জামায়াত। দলটি বলছে, বদলির ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও আস্থা রাখার পদ্ধতি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনী আচরণবিধি প্রয়োগ করার সামর্থ্য ইসির আছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। এছাড়া বিএনপির প্রচারণায় তারেক রহমানের ছবি ব্যবহারেও এনসিপির আপত্তি জানিয়েছে।
নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করাকেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছে গণসংহতি আন্দোলন। সে জন্য ‘নির্বাচনী পরিবেশ মনিটরিং কমিটি’ গঠনের দাবি জানিয়েছে দলটি।বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রথম পর্বের সংলাপ শুরু হয়। এসময় সংলাপে অংশ নেওয়া জামায়াত, এনসিপি ছাড়াও বাকি পাঁচটি দল হলো বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণসংহতি আন্দোলন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) ও বাংলাদেশ লেবার পার্টি।
দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংলাপে অংশ নেয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মার্কসবাদী (নতুন দল)।
সংলাপের শুরুতে সূচনা বক্তব্য দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, সংলাপের মূল উদ্দেশ্য দুটি। আচরণবিধি পরিপালন নিয়ে আলোচনা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে দলগুলোর সহযোগিতা নিশ্চিত করা। নির্বাচন কমিশন একা নয়, সুন্দর-গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোও জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আচরণবিধির খসড়া করার সময় নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের দেওয়া অনেকগুলো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়েবসাইটে দিয়ে জনগণ ও রাজনৈতিক দলের মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে সুন্দর নির্বাচনের জন্য আচরণবিধি প্রস্তুত নয়, পরিপালনটাই গুরুত্বপূর্ণ।





