ওসমানীনগরে প্রতিপক্ষের হামলায় বসতবাড়ি ভাংচুর, আহত ৮
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ৮:১৬:৫০ অপরাহ্ন

ওসমানীনগর প্রতিনিধি: ওসমানীনগরের দয়ামীর ইউনিয়নের ছোট ধিরারাই সরিষপুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় বসতবাড়ি, বাড়ির দেওয়াল, আসবাবপত্র, গাড়ী ভাংচুরসহ ৮জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, শনিরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বাবুল মিয়া, সবজুল হক, সিদ্দিক আলী, সেবুল মিয়া উরফে বুলু মিয়া, রনাগলপুর গ্রামের বাসিন্দা ময়নুল ইসলাম, এমদাদ হোসেন, আবুল হোসেন ও জনৈক কালাম মিয়া। গত শুক্রবার ১২টার দিকে এবং ২টার দিকে সরিষপুর গ্রামের সুফি মিয়ার ছেলে জুনেদ হোসেন এর বাড়িতে দফায় দফায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার ৪টার দিকে প্রতিপক্ষ খালিক মিয়ার ছেলে শাহিন মিয়া (১২) জুনেদ হোসেন এর বাড়ির উপর দিয়ে বাই সাইকেল চড়ে হর্ণ বাজিয়ে যান। এসময় সাইকেলের হর্ন বাজাতে জুনেদ হোসেন নিষেধ করেন। এ নিয়ে সন্ধ্যার পর উভয়পক্ষে কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি নিস্পত্তি করতে গ্রামের মুরব্বীরা শালিস করতে আসেন এবং উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেন। পরদিন সকালে একে অপরকে ডাকাডাকি করলে সাড়ে সাড়ে ১১টার দিকে খালিক মিয়ার পক্ষের লোকজন জুনেদ হোসেন বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভাংচুর শুরু করে এবং উভয়পক্ষ মারামারিতে লিপ্ত হয়। এসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। বেলা ২টার দিকে খালিক মিয়ার লোকজন জড়ো হয়ে জুনেদ মিয়ার বসতবাড়িতে হামলা করে দরজা জানালা, ডিপ ফ্রিজার, নরমাল ফ্রিজার, কাঠের সকেচ, আলমিরা, কাপ-পিরিচ, থালা-বাসন, ডিনারসেট, সিসি টিভি ক্যামেরা, উঠানে থাকা প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ভাংচুর করেন। এসময় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট হলে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উভয়পক্ষের হামলার শিকার হন পুলিশ সদস্যরা। এরপর ওসমানীনগর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং জুনেদ হোসেন এর বাড়ি থেকে ৬জনকে গ্রেফতার করে তাদেরকে পুলিশ এসল্ট মামলায় কোর্টে চালান করেন। ঘটনার একসপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার জুনেদ হোসেন বাদী হয়ে সিলেট কোর্টে বসতবাড়ি ভাংচুর এর অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে এবং তার পক্ষের লোকজনকে আহত করার অপরাধে ফৌজধারী আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেছেন।
জুনেদ হোসেন (৪৫) বলেন, আমার বাড়ির উপর দিয়ে খালিক মিয়া গং একটি রাস্তা নিতে বহুদিন ধরে পাঁয়তারা করছে। তারা আদালতে একটি মামলাও দায়ের করে। বর্তমানে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। গতদিন আমি আমার বাড়ির উপর দিয়ে সাইকেল নিয়ে হর্ণ বাজিয়ে যেতে তার ছেলেকে নিষেধ করলে তারা দল বল নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা করে আমার ৮জন লোককে আহত করেছে। তাদের হামলায় পুলিশ সদস্যরাও আহত হন। তারা আমার ঘর থেকে স্বর্ণালংকার লুট করেছে।
খালিক মিয়ার পক্ষের ছৈয়দুন নেছা (৭০) ও রিনা বেগম (৫৫) বলেন, তারা আমাদের বাড়ির রাস্তা বন্ধ করে রাখতে চায়। আমরা আদালতে মামলা করেছি। ছোট একটি ছেলে সাইকেল নিয়ে বাড়ির সামন দিয়ে গেলে নিষেধ করে। এরপর আমাদের রাস্তা বন্ধ করে রাখতে চায়। এই নিয়ে সমস্যা হলে পুলিশ আসে তখন তারা পুলিশকেও মেরেছে।
ওসমানীনগর থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, দুই পক্ষের মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ আইন শৃংখলা রক্ষা করতে গেলে লোকজন পুলিশের উপর হামলা করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে ঘটনাস্থল থেকে ৬জনকে গ্রেফতার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্তিতি শান্ত রয়েছে।





