হঠাৎ বড় ভূমিকম্প হওয়ার কারণ কী?
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৩৭:২৭ অপরাহ্ন

জালালাবাদ রিপোর্ট : ঢাকা, সিলেটসহ সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। হঠাৎ বড় ভূমিকম্প হওয়ার কারণ কী-তা বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এটাকে দেশের ইতিহাসে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প বলে উল্লেখ করেছেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার।
শুক্রবার ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি জানার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের দেশ তো ভূমিকম্পপ্রবণ। আজকের ভূমিকম্প এত বড় ঝাঁকুনি ও শক্তিশালী হওয়ার কারণ হলো দেশের পূর্ব প্রান্তটা হচ্ছে বার্মা প্লেট, পশ্চিমটা হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্লেট; এই সংযোগস্থলে ভূমিকম্প হয়েছে। এবং এই সংযোগটা এতদিন আটকে ছিল। এখন এই সংযোগটা আজকে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে খুলে গেছে। অর্থাৎ আটকানোটা বা লকটা খুলে গেছে।
তিনি বলেন, এখন সামনে আরও বড় ভূমিকম্প হতে পারে। আজকের এই ভূমিকম্প সেই সতর্কবাণী দিচ্ছে। প্লেট যেটা আটকে ছিল, সেটা আটকানো অবস্থা থেকে খুলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরও বড় ভূমিকম্প হবে। যেটা আমরা ২০১৬ সাল থেকে বলে আসছি।
তিনি বলেন, আমরা তখন পূর্বাভাস দিয়েছিলাম ৮ মাত্রাশক্তির ভূমিকম্প এখানে জমা হয়ে আছে। সেই শক্তির সামান্য অংশ আজ বের হলো। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্মরণকালের এত বড় ভূমিকম্প হয়নি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, বাংলাদেশে এমন ভূমিকম্প হওয়ারই কথা। রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হলে সবকিছু ভেঙে পড়ার আশঙ্কা আছে। বড় ভূমিকম্পগুলো ১৫০ বছর পরপর ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে। এদিক থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পগুলো ফেরত আসার সময় হয়ে গেছে। তাই এই ভূমিকম্পের পর সবাইকে সচেতন ও সাবধান হতে হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরে মোট ২১ লাখ ভবন আছে। এর মধ্যে ছয় লাখ ভবন ছয়তলার ওপরে। বাকিগুলো ছয়তলার নিচে। বড় ভূমিকম্প হলে এই ছয় লাখ ভবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বিশ্বব্যাংক ভূমিকম্প মোকাবিলাসহ নানা ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য রাজউককে ১৮ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দিয়েছে জানিয়ে মেহেদি আহমেদ আনসারী জানান, কিন্তু রাজউকের সেই সামর্থ্য নেই।
এই ভূমিকম্প বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা বলে মন্তব্য করে অধ্যাপক আনসারী বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর দেশের গার্মেন্টস ভবনগুলো পরীক্ষা করে ভালো বা খারাপ নির্ণয় করা হচ্ছে। রানা প্লাজা ধস হওয়ার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে এখন রাজধানীর ভবনগুলো পরীক্ষা করতে হবে। কারণ, অনেকেই বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করে না। মাটির ওপর কম্পনের যে তীব্রতা, এটা স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি। এটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।





