একইদিনে দুই ভোট : ইসিকে সরকারের ‘গণভোটের’ চিঠি
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ৯:০১:২৯ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : সকল জল্পনা-কল্পনা ও বিতর্ককে পেছনে ফেলে গণভোটের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। চিঠিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজন করতে বলা হয়েছে। তবে সিইসি বলছেন, একইসাথে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন ইসির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিরোধের মধ্যে গেল ১৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেন। তার এক সপ্তাহ পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইসিকে চিঠি দিল।শনিবার বিকেলে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সরকার চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, গণভোট করা ইসির দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে একইদিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করার জন্য বলা হয়েছে।
এদিকে একইদিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট করা ইসির জন্য চ্যালেঞ্জিং বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, গণভোটের প্রস্তুতি নিতে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে।
রাজধানীর গুলশানে এক কর্মশালায় সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আগামী সপ্তাহে গণভোটের আইন করা হবে। আইনটা হয়ে গেলে গণভোটের প্রস্তুতি শুরু করবে কমিশন।
এটি আয়োজন করা চ্যালেঞ্জ হবে জানিয়ে সিইসি বলেন, একইদিনে নির্বাচন ও গণভোট করার মতো এমন মুখোমুখি পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি পূর্ববর্তী কোনো নির্বাচন কমিশনকে।
আগের কমিশনকে এতটা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়নি, যা বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে করতে হচ্ছে। কারণ আইন মেনেই সব প্রক্রিয়া হচ্ছে। আমাদের দ্বিতীয় কোনো অপশন নেই।
সিইসি ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন বলেন, প্রায় ২১ লাখ মৃত ভোটারের নাম এখনো ভোটার তালিকায় রয়েছে। আগের তিনটি জাতীয় নির্বাচনে মৃত ভোটারদের হয়ে অন্যরা ভোট দিয়েছে। নীলফামারিতে মিয়ানমারের ২০-২৫ জন নাগরিক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পোস্টাল ভোট প্রক্রিয়া বেশ জটিল।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ব্যালটের ধরন নিশ্চিত নয়। তবে প্রস্তাবিত চারটি পয়েন্টে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভিত্তিক ভোট হবে বলে জানান তিনি।
সবশেষে সিইসি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি এখন নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কমিশন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।





