অধ্যাদেশ-২০২৫ অনুমোদন : আইনি ভিত্তি পেলো গণভোট
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৩৪:০৮ অপরাহ্ন
ব্যালট হবে রঙিন, প্রচারণায় নামছে নির্বাচন কমিশন
জালালাবাদ রিপোর্ট : অবশেষে আইনি ভিত্তি পেলো বহুল আলোচিত গণভোট। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট হবে একই দিনে। এই বিধান রেখে গণভোট অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। যাতে সংসদের ভোটের ব্যালট সাদাকালো ও গণভোটেরটি রঙিন আকারে ছাপানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পৃথক ব্যালট পেপারে চারটি বিষয়ের ওপর একটি প্রশ্নে হবে এই গণভোট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো গণভোটেও প্রবাসীসহ চার শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫-এর খসড়া নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে এই আদেশ অনুমোদিত হয়। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে ১১টায় বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষে বিকেল ৪টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, ভোটারদের সুবিধার্থে গণভোটের ব্যালট হবে ভিন্ন রঙের। আমরা আশা করছি, দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে। সংসদ নির্বাচনের জন্য যেসব রিটার্নিং, সহকারী রিটার্নিং, প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসার নিয়োগ করা হবে তারাই গণভোটের একই দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, গণভোটে প্রশ্ন থাকবে একটি। হ্যাঁ অথবা না ভোট দিতে হবে।
ড. আসিফ নজরুল জানান, জাতীয় নির্বাচনের ভোটের সময় হবে গণভোট। গণভোটের ব্যালট জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট থেকে পৃথক রঙের হবে। যাতে কেউ দ্বিধার মধ্যে না পড়েন। আইন উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশকৃত ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে নির্বাচনে জয়ী দল বাধ্য থাকবে-এটি সহ মোট চারটি পয়েন্টে জনগণের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট নেওয়া হবে। জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্ন হবে, ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’ এর হ্যাঁ/না উত্তর দিতে হবে। প্রশ্নগুলো হবে:
ক. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
খ. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
গ. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
এর আগে গত ১৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে সরকার কাজ করছে বলে জানান। ওই নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
প্রচারণায় নামছে নির্বাচন কমিশন :
একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একেবারেই নতুন। এই কারণে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচারে নামছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তারা মনে করছে, সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে ভোটারদের মধ্যে ধারণা থাকলেও গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষ এখনও গণভোট সম্পর্কে কম সচেতন। এমন পরিস্থিতিতে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সংসদ নির্বাচনের প্রচারের সঙ্গে গণভোটের প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করেছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি।
ইসির মূল চ্যালেঞ্জ হলো- ভোটারদের মধ্যে গণভোটের সচেতনতা সৃষ্টি করা। এজন্য কয়েকটি পরিকল্পনাও নিয়েছে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংস্থাটি।
পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- গণভোট বিষয়ক ভিডিও তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার, বিটিভি ও অন্যান্য মাধ্যমে তা সম্প্রচার করা। সাংবাদিকদের জন্যও গণভোট বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সঙ্গে সঙ্গে গণভোটের প্রচারণা করা। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য মাধ্যমে ভোটদান প্রক্রিয়া নিয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধির টিভিসি, কাউন্টডাউন, স্লোগান, পথনাটক, র্যালি, বিজ্ঞাপন, লিফলেট ও পোস্টার তৈরি করে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার করবে ইসি।
এছাড়া এআই ও ফেইক নিউজ শনাক্তকরণ, গুজব প্রতিরোধে বিটিভির মাধ্যমে ফ্ল্যাশ নিউজ প্রচার, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়া নিয়েও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে।






