নিত্যপণ্যে অস্বস্তি কাটছেনা, ভরা মওসুমেও সবজি চড়া
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ৩:৪০:১৬ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা কাটছেই না। ভরা মওসুমে সবজির বাজার চড়া রয়েছে। অথচ প্রতিদিন সরবরাহ বাড়ছে। এ নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে দেখা গেছে ক্ষোভ। তারা চান প্রশাসনের বাজার মনিটরিং। একইসঙ্গে কমেনি পেঁয়াজের দাম। ভোজ্যতেলও নাগালেও বাইরে। চালের বাজারে অস্বস্তি।
শুক্রবার সিলেটের বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। শীতকালীন সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও দাম কমছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সবজির দাম কমছে না। শুধু তাই নয়, বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় এ বছর সবজি বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজি শিম কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ১৩০ টাকা, দেশি গাজর ৭০ টাকা ও ইন্ডিয়ান ১৪০ টাকা, মুলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস, বাঁধাকপি বড় সাইজের ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি ঝিঙা ৬০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা ও ধুন্দল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এ ছাড়া আলু ৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সয়াবনি তেল ১৯৫-২০০ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা, ইন্ডিয়ান ১৮০ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা ও খেসারির ডাল ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে সোনালি কক মুরগি ২৮০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৭০ থেকে ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি ইলিশ ১০০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের ১৬০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা ও ১ কেজি ওজনের ২৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে ১ কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, রুই দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা, নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা ও ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে। এদিকে তিন দিন আগে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ডিসি, ইউএনওকে পাঠিয়ে জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এই সমস্যার সমাধানের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সরকার। এখন ধান কাটার মৌসুমে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী-এটার কারণ কি- এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, চালের বাজার শুধু সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল নয়। ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল, হোলসেল ও রিটেল-সবকিছুর ওপরই নির্ভর করে। ভোক্তা অধিকার সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন এগুলো দেখবে। কিন্তু ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে বলে মন্তব্য করেন অর্থ উপদেষ্টা।





