মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে চলছে ভয়ংকর শোষণ নিপীড়ন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ৭:১৪:৫৫ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর ভয়াবহ শোষণ, প্রতারণা ও ঋণ-দাসত্বের মতো অবমাননাকর পরিস্থিতি তুলে ধরেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই নির্যাতন ব্যাপক, পদ্ধতিগত এবং দীর্ঘদিনের অবেক্ষিত’।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এশিয়ার সহকারী পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলির ২৬ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বৈধ ওয়ার্ক পারমিটধারী বাংলাদেশির সংখ্যা ৮ লাখেরও বেশি। এটি দেশটির সর্ববৃহৎ বিদেশি শ্রমিকগোষ্ঠী। অথচ মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আগেই অনেক শ্রমিককে সরকারি নির্ধারিত খরচের পাঁচগুণ পর্যন্ত দিতে হয়েছে দালালচক্রকে। অসংখ্য শ্রমিক এখনো দেশে আটকে আছেন; অন্যদিকে যারা পৌঁছেছেন, তারা প্রতারণা ও শোষণের জালে নিমজ্জিত।
শ্রমিকদের অভিযোগ- নিয়োগদাতাদের হাতে পাসপোর্ট জব্দ, ভুয়া চাকরির প্রতিশ্রুতি ও চুক্তিতে অসঙ্গতি, চুক্তির তুলনায় কম বেতন, অমানবিক কর্মপরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর উদাসীনতা।
ডকুমেন্ট না থাকলে শ্রমিকদের গ্রেপ্তার, আটক, নির্যাতন ও জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি থাকে প্রতিনিয়ত। মালয়েশিয়ার কড়া ইমিগ্রেশন আইনের কারণে নিয়মিত পরিচালিত অভিযানে বহু শ্রমিক ধরা পড়ছেন। সাম্প্রতিক হিসাবে দেশটির ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে প্রায় ১৮ হাজার অভিবাসী, শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী আটক রয়েছেন।
প্রতিবেদন আরও জানায়, জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে অতীতে যুক্তরাষ্ট্র মালয়েশিয়ার বেশ কিছু কারখানার পণ্যের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফোর্সড লেবার রেগুলেশন কঠোরভাবে কার্যকর হলে ফোর্সড লেবার-সংযুক্ত কোনো পণ্যই ইউরোপের বাজারে ঢুকতে পারবে না। ফলে ঋণ-দাসত্ব, প্রতারণা ও শোষণের মতো অপরাধ মালয়েশিয়ার রপ্তানিতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে বলছেন, অভিযোগগুলো অবিলম্বে তদন্ত করতে হবে, ভুক্তভোগীদের কার্যকর প্রতিকার দিতে হবে এবং কোনোভাবেই জোর করে ফেরত পাঠানো বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এসবই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আওতায় গুরুতর অপরাধ।
এছাড়া মালয়েশিয়া থেকে পণ্য আমদানিকারক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোকে ফেয়ার লেবার অ্যাসোসিয়েশনের ‘রেসপনসিবল রিক্রুটমেন্ট গাইডলাইন’ অনুসরণ করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে শ্রমিক সংগ্রহের ন্যায্য ব্যয় ক্রয়মূল্যের অংশ হিসেবে ধরার কথা বলা হয়েছে, সেই সঙ্গে আইনগত সহায়তার সুযোগ বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া-দুই দেশকেই শ্রমিক-নির্যাতন বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অভিবাসী শ্রমিকদের শ্রমে যেসব দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে, মানবিক ও ন্যায্য শ্রমনীতি প্রয়োগের মাধ্যমে সেসব দেশকে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি ও হাজারো শ্রমিকের দুর্দশা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।




