কিশোর গ্যাং দ্বন্দ্বে স্কুলছাত্র তপু খুন : থানায় মামলা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ৮:২৬:১৩ অপরাহ্ন
নয়াসড়কে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট নগরীর বাদামবাগিচা ইলাশকান্দি এলাকায় কিশোর গ্যাং দ্বন্ধে স্কুল ছাত্র তপু খুনের ঘটনায় থানায়া মামলা দায়ের করা হয়েছে। তপু খুনের ঘটনায় শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) দিবাগত রাতে নিহত তপুর মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে এসএমপির বিমানবন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মো. জাহিদ হাসানসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন বাদামবাগিচা ইলাশকান্দি এলাকায় স্থানীয় দুটি কিশোর গ্যাং গ্রুপের পূর্ব বিরোধের জের ধরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে ইলাশকান্দির উদয়ন ৪০/২ এলাকার বাসিন্দা শাহ এনামুল হকের ছেলে শাহ মাহমুদ হাসান তপু (১৫) নিহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ইলাশকান্দি এলাকায় দুই কিশোর গ্যাং গ্রুপের বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের প্রধান জাহিদ হাসান এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তপুকে গুরুতর জখম করে। পরে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় স্বজনরা তপুকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্থান্তর করা হলে। শুক্রবার মরদেহ দাফন করা হয়।
এসএমপির এয়ারপোর্ট থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান জানান, মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামীকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
জানা গেছে, বাদামবাগিচায় স্কুল ছাত্র তপুর রক্তের দাগ না শুকাতেই শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৫ টার দিকে সিলেট নগরীর হাওয়াপাড়া গলির মুখের নয়াসড়ক এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। প্রথমে দুই গ্রুপের কিশোররা হঠাৎ মুখোমুখি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে একজন কিশোর রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার সঙ্গীরা দ্রুত তাকে সিএনজি অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে আহত কিশোরের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ দেখা গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। কাজিটুলা ও জেলরোড এলাকার কিশোরদের মধ্যে স্কুলকেন্দ্রিক পূর্ব শত্রুতার জেরেই এ সংঘর্ষ ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ শাখার (সিটিএসবি) উপ-কমিশনার তারেক আহমেদ বলেন, দুই কিশোর গ্রুপের আগের বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে; প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও কথা হচ্ছে। দ্রুতই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতেই কাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাসের ১০ নভেম্বর সোমবার নগরীর বালুচর এলাকায় কিশোর গ্যাং গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফাহিম (২৩) নামে এক যুবককে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষের লোকজন। ঘটনার রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আবারো সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মারা যান ফাহিম।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ফাহিমের বড় ভাই মামুন আহমেদ (২৫) ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি এলাকায় ‘বুলেট মামুন গ্রুপ’ নামে একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিতেন। গত ১০ অক্টোবর মামুনকে দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ১১টি মামলা আছে। মামুন কারাগারে যাওয়ার পর ছোট ভাই ফাহিম বালুচর এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন। এ নিয়ে একটি পক্ষের সাথে তার বিরোধ দেখা দেয়। পরে খুন হন ফাহিম।
এদিকে পুলিশ সূত্র বলছে, নগরের ৬ থানা এলাকায় কিশোর অপরাধীরা তৎপর। এদের বেশির ভাগের বয়স ১৮ বছরের নিচে। কেউ স্কুলে পড়ে, কেউ টমটম চালক। বেশির ভাগই বস্তিবাসী। এরা আগেও রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিল কখনো আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ছবি, কখনো অন্য দলের ব্যানারে। এখনো নতুন আশ্রয়দাতার খোঁজে তারা সক্রিয়। ইতোমধ্যে নিজেদের আশ্রয়েরও ব্যবস্থা করে দিন দিন বেপরোয়া হচ্ছে তারা।
এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, সিলেট নগরে কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে আমরাও উদ্বিগ্ন। কিছু অপরাধীর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলেও কোন রাজনৈতিক দলের শেল্টারের কোন প্রমাণ আমরা এখনো পাইনি। পুলিশ নিজেদের মতো করে দায়িত্ব পালন করছে। কিশোর অপরাধ দমনে অভিভাবক, রাজনৈতিক দলসহ সচেতন নাগরিকবৃন্দকে এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে ১৮ বছরের নিচের বয়সের অপরাধীদের বিরুদ্ধে চাইলেই পুলিশ কার্যকর অ্যাকশন নিতে পারেনা।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে নগরীর বেশকিছু পাড়া মহল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডার খবর আমাদের কাছে এসেছে। আমরা একটা তালিকা প্রণয়ন করতেছি। তালিকা প্রণয়ন শেষ হলে সেই অনুযায়ী গ্রেফতার অভিযান চালানো হবে। কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশ সবসময় সক্রিয় রয়েছে।





