খালেদার পাশে দেশ, লন্ডন নেওয়ার পরিকল্পনা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৩৯:২২ অপরাহ্ন

জালালাবাদ রিপোর্ট: আপোষহীন দেশনেত্রী এই বাক্যটি উচ্চারিত হলে সবার আগে যে নাম এদেশের মানুষের চোখে ভাসে তিনি বেগম খালেদা জিয়া। দেশ ও মানুষের জন্য তার ত্যাগ অটল অবিচল মনোভাবে জন্য তিনি সর্বমহলে শ্রদ্ধার এক অনন্য স্থান দখল করে আছেন। ফলে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী কিংবা বিএনপি চেয়ারপার্সন ছাপিয়ে সবার কাছে তিনি দেশনেত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। জীবনমৃত্যুর সন্ধিকক্ষণে থাকা এই নেত্রীর পাশে এখন যেন পুরো দেশ অবস্থান নিয়েছে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই পরিবারের সদস্যরা তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে এ কথা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তবে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি বিদেশ নেওয়ার অবস্থায় নেই বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি বলেছেন, শারীরিক অবস্থা আল্লাহর অশেষ রহমতে যদি ‘স্টেবল (স্থিতিশীল) হয়, তখন চিন্তা করে দেখা হবে যে তাকে বিদেশে নেওয়া হবে সম্ভব হবে কিনা।শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৩ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার থেকে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনি।
এদিকে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে দোয়া-প্রার্থনা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, আমীরে জামায়াতসহ প্রায় সবকটি দলের নেতারা তার সুস্থতা কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন। ইসলামী স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারীসহ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরাও তার রোগমুক্তি কামনা করেছেন। ডাকসু ভিপি সাদেক কায়েম সিলেটের জনসভায় সবাইকে নিয়ে মোনাজাত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান শ্রেণি- পোশার মানুষ খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে পোস্ট দিয়েছেন। বিশেষ করে ফেসবুক যেন অনেকটা খালেদাময় হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা হাসপাতালে ছুটে যাচ্ছেন। তারা সুস্থতা কামনাসহ নানান আক্ষেপের কথাও তুলে ধরেছেন।
উপদেষ্টা পরিষদে তার জন্য দোয়া করা হয়েছে। শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষসভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে এই দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ম উপদেষ্টা অধ্যাপক মাওলানা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।
লন্ডন নেওয়ার পরিকল্পনা: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই পরিবারের সদস্যরা তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে এ কথা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন লিখেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও তার চিকিৎসা পরিচালিত হচ্ছে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে। লন্ডন থেকে সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী এবং খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান।’
সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমান দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। মায়ের চিকিৎসায় যেন কোনো বিলম্ব বা সীমাবদ্ধতা না থাকে সেজন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ তদারকি করছেন তারেক রহমান।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছেন। তবে সিসিইউতে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘হাসপাতালে নেত্রীর শারীরিক অবস্থার খবর নিতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ভিড় করলেও ইনফেকশনের ঝুঁকির কারণে কাউকে সিসিইউতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। দূর থেকেই মানুষ ভালোবাসা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।’
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের প্রস্তুতের কথা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘খালেদা জিয়ার কিছুটা শারীরিক উন্নতি হলে তাকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে লন্ডনের সেই হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যাদের তত্ত্বাবধানে চলতি বছরের শুরুতে চার মাস চিকিৎসা নিয়ে খালেদা জিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি লাভ করেছিলেন। পাশাপাশি একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসজ্জিত বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশবাসীর দোয়া ও ভালোবাসায় বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হবে। আধুনিক চিকিৎসা শেষে তিনি আবারও দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করবেন, নেতৃত্ব দেবেন এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার ভূমিকা রাখবেন, ইনশাআল্লাহ।’





